তৃণমূলে নজিরবিহীন ভাঙন, সায়নী-সুদীপকে সরিয়েও কি শেষ রক্ষা হবে মমতার! – এবেলা

তৃণমূলে নজিরবিহীন ভাঙন, সায়নী-সুদীপকে সরিয়েও কি শেষ রক্ষা হবে মমতার! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ফাটল এখন চরম আকার ধারণ করেছে। দলের রাশ শক্ত হাতে ধরে রাখতে রীতিমতো মরিয়া তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিস্থিতিতে দলের অন্দরে কড়া বার্তা দিতে বড়সড় সাংগঠনিক রদবদল ঘটালেন তিনি। যুব তৃণমূলের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে সায়নী ঘোষকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অন্যদিকে, বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়া প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে অপসারণ করে কুণাল ঘোষকে নতুন সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে দলের এই ড্যামেজ কন্ট্রোল নীতির মধ্যেই দিল্লিতে ঘাসফুল শিবিরের বিদ্রোহী নেতারা চরম আঘাত হানার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

দিল্লিতে আসল তৃণমূলের স্বীকৃতি আদায়ই লক্ষ্য

দলের এই চরম বিপর্যয়ের আবহে ইতিমধ্যেই একের পর এক হেভিওয়েট নেতা ও তারকারা মমতার হাত ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। বর্ষীয়ান নেতা সুখেন্দু শেখর রায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেবের ইস্তফার পর দলের অন্দরে ভাঙন আরও প্রকট হয়েছে। সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে প্রায় ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ একটি পৃথক সংসদীয় ব্লক তৈরি করেছেন। এই তালিকায় রয়েছেন দেব, ইউসুফ পাঠান, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, শত্রুঘ্ন সিনহা, জুন মালিয়া থেকে শুরু করে সায়নী ঘোষের মতো একঝাঁক তারকা ও প্রবীণ নেতা। আগামীকাল সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি দাবি করবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া।

বিদ্রোহের কারণ ও বঙ্গ রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

মূলত নির্বাচনে দলের অপ্রত্যাশিত ভরাডুবি এবং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অন্তর্দ্বন্দ্বই তৃণমূলের এই নজিরবিহীন মহাধসের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে দিল্লিতে বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকের জল্পনাকে কেন্দ্র করে। কাঁথিতে নির্দিষ্ট কর্মসূচি থাকায় মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি যাওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও, এই রাজনৈতিক ডামাডোলের প্রভাব বঙ্গ রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে। সোমবার স্পিকারের ঘরে বিক্ষুব্ধরা যদি নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠায় সফল হন, তবে তা তৃণমূলের মূল কাঠামোর অস্তিত্বকেই বিপন্ন করে তুলবে এবং বাংলার রাজ্য–রাজনীতিতে এক বড়সড় পটপরিবর্তন ঘটাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *