অভিষেকের ওপর হামলায় উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি, তৃণমূলের পুরোনো সংস্কৃতিকেই কাঠগড়ায় তুললেন অধীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নজিরবিহীন হামলার মুখে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে লক্ষ্য করে ইট, পাথর ও ডিম ছোড়ার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত। এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে বাংলার রাজনৈতিক হিংসার সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
অধীরবাবু সাফ জানিয়েছেন, রাজ্যে এই মুহূর্তে যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, গুন্ডামির সংস্কৃতি সমানে জারি রয়েছে। তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, বাংলায় ওরা যে সংস্কৃতি তৈরি করেছিল, আজ নিজেরাই তার শিকার হচ্ছে। তৃণমূল অতীতে যে গুন্ডামি করত, এখন বিজেপিও ঠিক সেটাই করছে। তৃণমূলের জমানায় যে হিংসা দেখা গেছে, তা কিন্তু শেষ হয়নি, এখনও চলছে। এই সব অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার বলে তিনি স্পষ্ট জানান।
তৃণমূল-বিজেপি চরম সংঘাত ও খুনের চক্রান্তের অভিযোগ
এই ঘটনার পর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেককে দেখতে হাসপাতালে গিয়ে তিনি সরাসরি বিজেপিকে এই হামলার জন্য দায়ী করেন এবং গেরুয়া শিবিরকে ‘খুনি’ বলে আখ্যা দেন। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তৃণমূল সাংসদকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত চরম রূপ ধারণ করেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই পরিকল্পিতভাবে অভিষেকের ওপর এই প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও দাবি করেছেন যে, এটি তাঁকে খুন করার চক্রান্ত ছিল। পুরো ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি রয়েছে এবং এই বিষয়ে তিনি কলকাতা হাইকোর্ট ও রাজ্যপালের দ্বারস্থ হবেন। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত আইনি লড়াই লড়বেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা।
গণতন্ত্রের ওপর আঘাত এবং দিল্লির প্রতিক্রিয়া
এদিকে দিল্লিতে এই ঘটনার কড়া নিন্দা করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বিষয়টিকে বিজেপির “প্রতিহিংসার রাজনীতির এক ঘৃণ্য রূপ” বলে বর্ণনা করেছেন। রাহুল গান্ধী বলেন, একজন নির্বাচিত সাংসদের ওপর এই ধরণের আক্রমণ আসলে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। কেন্দ্র এবং রাজ্য দুই সরকারের কাছেই দোষীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি, যাতে কোনো জনপ্রতিনিধিকে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হতে না হয়। এই ঘটনার ফলে রাজ্যে রাজনৈতিক মেরুকরণ ও ভোট-পরবর্তী সংঘাত আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
