অমরত্বের নেশায় পুতিন! যৌবন ধরে রাখতে ২ লক্ষ কোটির গোপন প্রজেক্টে হাত দিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট – এবেলা

অমরত্বের নেশায় পুতিন! যৌবন ধরে রাখতে ২ লক্ষ কোটির গোপন প্রজেক্টে হাত দিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

অমরত্বের সন্ধানে পুতিনের দুই লক্ষ কোটির গোপন প্রকল্প

বার্ধক্যকে জয় করে অমরত্ব লাভের বাসনা দীর্ঘদিনের, তবে এবার সেই লক্ষ্য অর্জনে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। জানা গেছে, বার্ধক্য রোধ এবং মানুষের আয়ুষ্কাল নাটকীয়ভাবে বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার বা দুই লক্ষ কোটি টাকার এক বিশাল প্রকল্প হাতে নিয়েছে রাশিয়া। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সীমা ছাড়িয়ে নতুন এক ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন রুশ রাষ্ট্রপ্রধান।

বিজ্ঞানের অসাধ্য সাধনে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো জিন থেরাপি, ল্যাবে কৃত্রিম অঙ্গ তৈরি, প্রাণীর শরীরে মানুষের অঙ্গ প্রতিস্থাপন এবং ক্রায়োথেরাপির মতো বৈপ্লবিক প্রযুক্তির ব্যবহার। ২০২৪ সালে শুরু হওয়া ‘নিউ হেলথ প্রিজারভেশন টেকনোলজিস’ নামক এই মিশনের অধীনে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় পৌনে দুই লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পুরো কার্যক্রমটির নেতৃত্বে রয়েছেন পুতিনের কন্যা মারিয়া ভোরোন্তসোভা এবং বিশিষ্ট রুশ বিজ্ঞানী মিখাইল কোভালচুক।

প্রকল্পের অন্যতম প্রধান দিক হলো জেনোট্রান্সপ্ল্যান্টেশন বা বিশেষ প্রজাতির মিনিয়েচার পিগের শরীরে মানুষের অঙ্গ তৈরি করা। এছাড়াও থ্রিডি বায়োপ্রিন্টিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ল্যাবে কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির কাজ চলছে, যা অদূর ভবিষ্যতে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সংকট দূর করতে পারে। পুতিনের দাবি, আগামী দিনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে মানুষ কার্যত অমরত্বের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে পারবে।

প্রভাব ও বিতর্ক

এই প্রকল্পের সম্ভাব্য প্রভাব সুদূরপ্রসারী হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সংশয় রয়েছে। সমালোচকদের মতে, আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক মহলে এই গবেষণার পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় একে কেবল রাজনৈতিক এজেন্ডা বা পুতিনের ব্যক্তিগত শখের প্রকল্প হিসেবে দেখছেন অনেকে। রাশিয়ার অনেক বিজ্ঞানীই এই প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে বাস্তব যাই হোক, অমরত্বের এই লড়াই চিকিৎসা বিজ্ঞানের নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *