“অমিত শাহের বাহিনী এখন বিজেপির প্রাইভেট আর্মি!” উদয়নারায়ণপুরে বৃদ্ধের মৃত্যুতে গর্জে উঠলেন অভিষেক

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজনৈতিক পরিস্থিতি। হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের খাসলপুর এলাকায় ভোট দিতে এসে ৮১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যু ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ধাক্কা ও দুর্ব্যবহারের কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছে শাসক দল।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের লড়াই
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, উদয়নারায়ণপুরের ২৪৫ নম্বর বুথে ছেলে তরণী ডোলুইয়ের সঙ্গে ভোট দিতে এসেছিলেন পূর্ণচন্দ্র ডোলুই। বয়সের ভারে চলাচলে অক্ষম ওই বৃদ্ধকে তাঁর ছেলে সাহায্য করতে চাইলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা বাধা দেন এবং ধাক্কাধাক্কি করেন। এর ফলে বৃদ্ধ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ‘বিজেপির ব্যক্তিগত সেনাবাহিনী’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণের অভিযোগ এনেছেন।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব
ঘটনার পর নিহতের পরিবার আমতা থানায় অভিযোগ দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উদয়নারায়ণপুরের তৃণমূল প্রার্থী সমীর পাঞ্জা হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের এই পর্যায়ে এসে সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে এবং বাহিনীর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আইনি লড়াইয়ের পথ প্রশস্ত করতে পারে। তৃণমূল নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এক ঝলকে
- হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের ২৪৫ নম্বর বুথে ভোট দিতে এসে পূর্ণচন্দ্র ডোলুই নামে ৮১ বছরের এক বৃদ্ধের মৃত্যু।
- কেন্দ্রীয় বাহিনীর ধাক্কায় ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
- মৃত বৃদ্ধের পরিবার আমতা থানায় অভিযোগ দায়ের করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
- নির্বাচনী আবহে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
