‘আইন শাস্তি দেবেই’, সুজিত বসুর গ্রেপ্তারিতে বিস্ফোরক মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ – এবেলা

‘আইন শাস্তি দেবেই’, সুজিত বসুর গ্রেপ্তারিতে বিস্ফোরক মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে। সোমবার প্রায় সাড়ে দশ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাঁকে হেফাজতে নেয়। মঙ্গলবার সকালে বিধাননগর হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়া শেষ করে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাঁকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, দুর্নীতির শিকড়ে পৌঁছাতে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও গ্রেপ্তারি

২০২২ সালে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত চলাকালীন ব্যবসায়ী অয়ন শীলের সল্টলেকের আবাসন থেকে পুর নিয়োগ সংক্রান্ত একগুচ্ছ নথি উদ্ধার করে ইডি। সেই সূত্র ধরেই এই মামলার সূত্রপাত। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সুজিত বসু ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের সদস্যদের বিরুদ্ধে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির একাধিক প্রমাণ মিলেছে। ইতিপূর্বে সুজিত বসুর স্ত্রী, সন্তান ও জামাইকেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। চলতি বছরের ৬ এপ্রিল প্রথম হাজিরা দিলেও পরবর্তী বেশ কিছু সমন তিনি এড়িয়ে গিয়েছিলেন। অবশেষে সোমবার হাজিরা দিলে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব

সুজিত বসুর গ্রেপ্তারি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে জানিয়েছেন যে, ব্যক্তি এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং সাধারণ মানুষের আমানত যারা লুণ্ঠন করেছে, আইন তাদের যথাযথ শাস্তি দেবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রশাসন দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রভাবশালী এই মন্ত্রীর গ্রেপ্তারি পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক পুরসভায় নিয়োগের ক্ষেত্রে সুজিত বসুর ভূমিকা এখন আতসকাঁচের তলায়। আদালতের নির্দেশে ইডি হেফাজত পেলে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য রাঘববোয়ালদের নামও সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘটনা আগামী দিনে শাসক শিবিরের জন্য অস্বস্তি আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *