আইনি প্যাঁচ এড়াতে মাস্টারস্ট্রোক, ত্রিপুরার অনামী দলে দেব-সায়নীরা! – এবেলা

আইনি প্যাঁচ এড়াতে মাস্টারস্ট্রোক, ত্রিপুরার অনামী দলে দেব-সায়নীরা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এবার বড়সড় ভাঙন! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ছেড়ে ত্রিপুরার এক প্রায় অপরিচিত রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে চলেছেন দেব, সায়নী ঘোষ-সহ ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ। ঘাসফুলের প্রতীক বা দলের অধিকার নিয়ে আইনি দড়ি টানাটানির পথে না হেঁটে তাঁরা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই) নামক ওই ছোট দলের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তীর দাবি, এই মর্মে ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি জমা দিয়েছেন তাঁরা। এমনকি পশ্চিমবঙ্গে এই নতুন দলের কার্যালয় খোলার প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে।

তৃণমূলের পালটা পদক্ষেপ

বিদ্রোহী সাংসদদের এই দলত্যাগ আটকাতে মরিয়া তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি কড়া চিঠি নিয়ে স্পিকারের বাসভবনে ছুটে যান মমতার দুই দূত সাগরিকা ঘোষ এবং কীর্তি আজাদ। ওই চিঠিতে স্পষ্ট দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল একটি অবিভাজ্য দল এবং লোকসভার ভিতরে আলাদা কোনও গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেওয়া সম্পূর্ণ সংবিধান-বিরোধী ও বেআইনি কাজ। সাগরিকা ঘোষের মতে, যে নেত্রী ও প্রতীকের ওপর ভর করে তাঁরা নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন, মাঝপথে তাঁদের পরিত্যাগ করা চরম নৈতিক স্খলনের নিদর্শন।

বিদ্রোহের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলত্যাগ বিরোধী আইনের কঠিন ফাঁদ এড়াতেই বিদ্রোহী সাংসদরা এই সুকৌশলী চাল চেলেছেন। একই দলের দুটি আলাদা ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া কঠিন এবং দলের মূল নাম বা প্রতীক নিয়ে আইনি লড়াই অত্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে। তাই সাংসদদের পর্যাপ্ত সংখ্যার জোরে সরাসরি অন্য একটি দলে মিশে যাওয়াকেই তাঁরা সবচেয়ে নিরাপদ কৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এই ঘটনায় রাজ্যের শাসক শিবিরের ওপর বড়সড় রাজনৈতিক চাপ তৈরি হল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার কটাক্ষ করে বলেছেন, শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে হয়তো কেবল অভিষেকই পড়ে থাকবেন। এই নজিরবিহীন ভাঙন তৃণমূলের অন্দরের ফাটলকে আরও প্রকট করে তুলল, যা আগামী দিনে জাতীয় তথা বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *