আইপিএলে অশনিসংকেত রুখতে কড়া বিসিসিআই, জারি হলো বিশেষ সতর্কতা!

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) বাড়তে থাকা শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং নিরাপত্তার অভাব নিয়ে নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। খেলোয়াড়, সাপোর্ট স্টাফ এবং কর্মকর্তাদের ঘিরে ‘হানি ট্র্যাপ’ বা ফাঁদে ফেলার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজিকেই একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানানো হয়েছে যে, বর্তমান মৌসুমে প্রোটোকল লঙ্ঘনের যে ঘটনাগুলো সামনে এসেছে, তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ না করলে ভারতীয় ক্রিকেটের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কঠোর নিরাপত্তা ও প্রোটোকল
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনুমতিহীন কোনো ব্যক্তি এখন থেকে ক্রিকেটার বা কর্মকর্তাদের হোটেলের রুমে প্রবেশ করতে পারবেন না। কোনো অতিথিকে দেখা করতে হলে সংশ্লিষ্ট দলের ম্যানেজারের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এমনকি খেলোয়াড় বা সাপোর্ট স্টাফরা আগে থেকে না জানিয়ে রাতে হোটেলের বাইরে যেতে পারবেন না। বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হলে অবশ্যই সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার (এসএলও) এবং টিম ইন্টিগ্রিটি অফিসারকে (টিআইও) অবহিত করতে হবে। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে আর্থিক জরিমানা থেকে শুরু করে সাময়িক বহিষ্কারের মতো কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছে বোর্ড।
মালিকদের ওপর বিধিনিষেধ ও আইনগত কড়াকড়ি
বিসিসিআই ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের আচরণ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ম্যাচ চলাকালীন ডাগআউট বা ড্রেসিংরুমে গিয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সরাসরি মেলামেশার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি ড্রেসিংরুম বা হোটেল চত্বরে ই-সিগারেট বা ‘ভেপিং’ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বোর্ড জানিয়েছে, ভারতে ভেপিং আইনত নিষিদ্ধ, তাই এর ব্যবহার বিসিসিআই-এর নিয়মের পাশাপাশি দেশের প্রচলিত আইনেরও লঙ্ঘন। মূলত খেলার স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ক্রিকেটারদের অনাকাঙ্ক্ষিত আইনি জটিলতা বা ব্ল্যাকমেইল থেকে রক্ষা করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এক ঝলকে
- হোটেল রুমে অনুমতিহীন প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং অতিথিদের জন্য ম্যানেজারের লিখিত অনুমতি বাধ্যতামূলক।
- হানি ট্র্যাপ বা যৌন কেলেঙ্কারির মতো ঝুঁকি এড়াতে ক্রিকেটারদের গতিবিধির ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
- ম্যাচ চলাকালীন ডাগআউট বা ড্রেসিংরুমে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের সরাসরি খেলোয়াড়দের সংস্পর্শে আসায় নিষেধাজ্ঞা।
- আইপিএল চত্বরে ই-সিগারেট বা ভেপিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নিয়ম ভাঙলে বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
