আট ঘণ্টার তল্লাশি! কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের জোকার ফ্ল্যাট থেকে কী পেল ইডি? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
শনিবার সকাল থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে চরম তৎপরতা। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাটে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এদিন ভবানীপুরের ধীরেন্দ্রনাথ ঘোষ রোডের বাড়ি থেকে শুরু করে জোকার ফ্ল্যাট, দক্ষিণেশ্বরের বাড়ি এবং যদুবাবুর বাজারের পার্টি অফিস—সব মিলিয়ে একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
জোকায় আট ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান
জোকায় মদন মিত্রের প্রায় দশ বছরের পুরনো একটি ফ্ল্যাটে সকাল ৭টা নাগাদ পৌঁছন ইডির আধিকারিকরা। তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে প্রায় আট ঘণ্টা ধরে চলে ম্যারাথন তল্লাশি। দুপুর ৩টে নাগাদ একটি নতুন তালা লাগিয়ে ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে যান তদন্তকারীরা। দীর্ঘ এই তল্লাশি অভিযানের পর জোকার ওই ফ্ল্যাট থেকে উল্লেখযোগ্য কিছুই পাওয়া যায়নি বলে জানা গিয়েছে।
দক্ষিণেশ্বরে উদ্ধার নথি এবং সমান্তরাল তৎপরতা
জোকায় ইডি খালি হাতে ফিরলেও, মদন মিত্রের দক্ষিণেশ্বরের বাড়ি থেকে নগদ টাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে। সেগুলি বিছানার তলায় লুকানো ছিল বলে সূত্রের খবর। একই দিনে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে পুলিশের উপস্থিতিও। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সহকারী সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলার তদন্তে ভোররাতেই কালীঘাটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বাসভবনে পৌঁছে যায় শালবনি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। এছাড়া বেলেঘাটা এবং জোকায় আরও দুই ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
এই সামগ্রিক অভিযানের মূলে রয়েছে রাজ্যের পুরসভাগুলিতে নিয়োগ দুর্নীতি। অভিযোগ, কামারহাটি-সহ একাধিক পুরসভায় ১২৫টিরও বেশি বেআইনি নিয়োগের সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে মদন মিত্রের এবং এর বিনিময়ে বিপুল ঘুষ নেওয়া হয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি-র এই জোরদার তল্লাশি এবং সমান্তরালভাবে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বাড়িতে পুলিশের এই আকস্মিক উপস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে এবং আগামী দিনে প্রশাসনিক ও আইনি লড়াইকে আরও জটিল করে তুলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
