আটকে রয়েছে জামিনের প্রক্রিয়া, হাই কোর্ট খুলতেই আইনি লড়াইয়ের মহাপরিকল্পনা তৃণমূলের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভোট পরবর্তী অশান্তির অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনের পর তৈরি হওয়া পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতাকর্মী বর্তমানে আইনি জটিলতায় জর্জরিত। তবে কলকাতা হাই কোর্টে বর্তমানে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ বা গরমের ছুটি চলায় থমকে রয়েছে জামিন প্রক্রিয়া। আদালত খোলার সাথে সাথেই ধৃত কর্মীদের আইনি স্বস্তি দিতে এবং জামিনের আবেদন নিয়ে বড়সড় আইনি লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে রাজ্যের শাসকদল।
দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ইতিমধ্যেই আইনজীবীদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির মূল লক্ষ্য হলো, রাজনৈতিক সংঘাত বা মামলার জেরে দলের যে সমস্ত কর্মী বিপাকে পড়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো। তৃণমূল নেতৃত্বের স্পষ্ট বার্তা, কোনো কর্মী মামলায় ফেঁসে গেলে দল তাঁর পাশে থাকবে। ইতিমধ্যেই এই কমিটির কাছে রাজ্যজুড়ে অসংখ্য জামিনের মামলার আবেদন জমা পড়েছে, যা নিয়ে জুনের প্রথম সপ্তাহে আদালত খোলার পরই জোর কদমে আইনি তৎপরতা শুরু হবে।
পুরনো মামলা বনাম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ
তৃণমূলের আইনজীবী সেলের দাবি, ২০২১ সালের নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পুরনো মামলা নতুন করে খোলা হচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধীদের পাল্টা অভিযোগ, তৎকালীন সময়ে শাসকদলের দাপটে যেসমস্ত মামলা করা সম্ভব হয়নি, সেগুলিই এখন নতুন করে নথিবদ্ধ করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে গণহারে ভুয়া মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলে অভিযোগ শাসকদলের।
এই আইনি লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান মুখ, আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে কর্মীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে সমস্ত মামলার এফআইআর এবং আদালতের আদেশের অনুলিপি তাঁর কাছে পাঠানোর আবেদন জানিয়েছেন। পুলিশের একটি অংশের বিরুদ্ধে বিজেপির প্ররোচনায় কাজ করার এবং নিরীহ কর্মীদের হেনস্থা করার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। গণতান্ত্রিক অধিকার ও আইনের শাসন রক্ষার স্বার্থে উচ্চ আদালতে এই লড়াই চালানো হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
প্রভাব ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ
কমিটির অন্যতম সদস্য তথা আইনজীবী বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এই পরিস্থিতিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে জানিয়েছেন যে, বহু আবেদন সরাসরি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে এবং তাঁদের কমিটির কাছে পৌঁছাচ্ছে। নিম্ন আদালতে সুরাহা না মেলায় কর্মীরা এখন উচ্চ আদালতের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।
জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের শেষেই কলকাতা হাই কোর্টের গরমের ছুটি শেষ হতে চলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদালত খুললেই একের পর এক জামিনের আবেদন জমা পড়ার কারণে আদালত চত্বরে রাজনৈতিক ও আইনি চাপানউতোর এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যাবে। এই আইনি লড়াইয়ের ফলাফলের ওপর আগামী দিনে মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মীদের মনোবল এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই নির্ভর করছে।
