আপন বোনকে দ্বিতীয় স্ত্রী সাজিয়ে ডিভোর্স আদায়! মহিলার আজব কারসাজিতে হতবাক আদালত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিচ্ছেদ নিশ্চিত করতে সাধারণত মানুষ কলহ বা নির্যাতনের অভিযোগ আনেন, কিন্তু মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে এক নারী যা ঘটিয়েছেন তা বিচার বিভাগীয় ইতিহাসে বিরল। স্বামীর থেকে আলাদা হওয়ার নেশায় তিনি খোদ স্বামীর আপন বোনকেই ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ হিসেবে আদালতে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। এই চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ওপর ভিত্তি করেই আদালত ওই দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন মঞ্জুর করেছিল, যা এখন উচ্চ আদালতের দরজায় কড়া নাড়ছে।
মিথ্যা তথ্যে আদালতকে বিভ্রান্তি
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৫ সাল থেকে যখন ওই নারী তাঁর স্বামীর থেকে আলাদা থাকতে শুরু করেন। ২০২১ সালে তিনি পারিবারিক আদালতে বিচ্ছেদের আবেদন জানান এবং দাবি করেন যে তাঁর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। প্রমাণ হিসেবে তিনি একটি পারিবারিক ছবি জমা দেন যেখানে তাঁর স্বামীর পাশে এক নারীকে দেখা যাচ্ছিল। আদালত সেই ছবির সত্যতা যাচাই না করেই এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতে একতরফাভাবে বিবাহবিচ্ছেদের রায় ঘোষণা করে। কিন্তু সম্প্রতি জানা গেছে, ছবিতে থাকা ওই নারী আসলে স্বামীর আপন বোন।
বিচার প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব
এপ্রিলের শুরুতে স্বামী আদালতের এই রায়ের কথা জানতে পেরে হতবাক হয়ে যান। তিনি অবিলম্বে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের গোয়ালিয়র বেঞ্চে মামলাটি চ্যালেঞ্জ করেন। তাঁর দাবি, স্ত্রীর দেওয়া মিথ্যা তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে এই রায় দেওয়া হয়েছে। সরকারি আইনজীবীর মতে, কোনো সুযোগ না দিয়েই একতরফা রায় দেওয়া এবং তথ্যের যাচাই না করা বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি বড় ত্রুটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হাইকোর্ট বর্তমানে মামলাটির শুনানি করছে। এই ঘটনার ফলে আইনি মহলে শোরগোল পড়ে গেছে, কারণ এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে সঠিক তদন্ত ছাড়া বিচ্ছেদের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রায় দিলে তা সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এখন হাইকোর্টের রায়ের ওপরই নির্ভর করছে ওই ব্যক্তির বৈবাহিক ভবিষ্যৎ।
এক ঝলকে
- স্বামীর আপন বোনকে দ্বিতীয় স্ত্রী সাজিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ আদায় করেছেন এক নারী।
- পারিবারিক আদালতের একতরফা রায়কে চ্যালেঞ্জ করে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগী স্বামী।
- ১৯৯৮ সালে বিয়ে হওয়া এই দম্পতি ২০১৫ সাল থেকে আলাদা থাকতেন, যার জেরে এই অদ্ভুত আইনি কৌশল নেন স্ত্রী।
- আদালতকে বিভ্রান্ত করার এই ঘটনায় বিচার বিভাগের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
