আফগানিস্তানের আমু দরিয়ায় মিলল বিপুল তেল খনির সন্ধান কি বদলে দেবে এশিয়ার জ্বালানি মানচিত্র! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কয়েক দশকের যুদ্ধ আর অস্থিরতা কাটিয়ে এবার জ্বালানি শক্তির দুনিয়ায় শক্তিশালী খেলোয়াড় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে আফগানিস্তান। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় জাওজান প্রদেশের আমু দরিয়া অববাহিকায় থাকা জামরাদ সাই এলাকায় পাঁচটি কূপের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে তেল উত্তোলন শুরু হয়েছে। খনি ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ ঘনমিটার তেল উৎপাদিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক ভূকম্পীয় জরিপে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসের মজুদের প্রমাণ মেলায় আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
আঞ্চলিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা
আফগানিস্তানের এই ‘কালো সোনা’র উত্থান মূলত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার বিকল্প উৎস হয়ে উঠতে পারে আফগান তেল। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে এটি শুধু আফগানিস্তানের ভেঙে পড়া অর্থনীতিকেই চাঙ্গা করবে না, বরং প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সাশ্রয়ী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।
ভারতের জন্য নতুন বাণিজ্যিক সমীকরণ
ভারতের জন্য এই তেলের খনি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চাবাহার বন্দরের মাধ্যমে আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের সরাসরি বাণিজ্যিক যোগাযোগ থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এই অঞ্চল থেকে তেল আমদানি করা অনেক বেশি সহজ ও লাভজনক হতে পারে। ইতিপূর্বেই দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। আফগান তেলের জোগান শুরু হলে সমুদ্রপথের জটিলতা এড়িয়ে ভারতের জন্য জ্বালানি আমদানির পথ আরও মসৃণ ও দ্রুত হবে, যা এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করবে।
এক ঝলকে
- আফগানিস্তানের জাওজান প্রদেশের আমু দরিয়া অববাহিকায় পাঁচটি কূপে তেল উত্তোলন শুরু হয়েছে।
- প্রাথমিক পর্যায়ে দৈনিক ৫০০ ঘনমিটার তেল উৎপাদিত হচ্ছে এবং বিশাল এলাকায় মজুদের সন্ধান মিলেছে।
- এই প্রকল্প মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যে বিকল্প জ্বালানি উৎস হিসেবে এশিয়ার ভাগ্য বদলে দিতে পারে।
- চাবাহার বন্দরের মাধ্যমে ভারতের জন্য সাশ্রয়ী ও দ্রুত তেল আমদানির নতুন পথ তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
