আবাসনের এক-তৃতীয়াংশ জায়গায় বৃক্ষরোপণ বাধ্যতামূলক, সবুজের খোঁজে কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত হওয়া শহরগুলোতে পরিবেশের ভারসাম্য ফেরাতে বড়সড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে নলবনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, এখন থেকে যেকোনো নতুন আবাসনের মোট জায়গার অন্তত এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় বৃক্ষরোপণ করা বাধ্যতামূলক। আইন থাকলেও এতদিন তা মানা হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
আইন মানতে হবে কঠোরভাবে
রাজ্যে ক্রমবর্ধমান আবাসন প্রকল্পগুলোর নকশা অনুমোদনকারী সংস্থাগুলোর ভূমিকার দিকে আঙুল তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিল্ডিং প্ল্যানে এক-তৃতীয়াংশ জায়গায় গাছ লাগানোর নিয়ম আগে থেকেই রয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তার প্রয়োগ দেখা যায় না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, কেবল গাছ লাগানোই শেষ কথা নয়, সেগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করাও জরুরি। শুধু প্রচারের উদ্দেশ্যে গাছ না লাগিয়ে প্রকৃত সবুজায়নের ওপরই তিনি জোর দিয়েছেন।
গাছ লাগানোর বিশাল লক্ষ্যমাত্রা
পরিবেশ রক্ষায় রাজ্য সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শুভেন্দু জানান, ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ কর্মসূচির আওতায় রাজ্যজুড়ে ৬ লক্ষ ফলের গাছ রোপণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, আসন্ন বর্ষায় রাজ্যে ১ কোটি ১০ লক্ষ গাছ লাগানোর উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে স্কুলের পাঠ্যক্রমে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে আরও গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
জঙ্গলমহল ও তরাই-ডুয়ার্স এলাকায় অবাধে গাছ কাটার বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবেশের সঙ্গে মানুষের এই অবিচারের খেসারত দিতে হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। একই সঙ্গে মন্দিরসহ বিভিন্ন তীর্থস্থানের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপরেও গুরুত্ব আরোপ করেন মুখ্যমন্ত্রী, যাতে প্রকৃতি ও স্বচ্ছতার সমন্বয়ে রাজ্যের পরিবেশ আরও বাসযোগ্য হয়ে ওঠে।
