আবেদন ফি ২৫০০ টাকা! কলেজ সার্ভিস কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষুব্ধ হবু অধ্যাপকরা, নবান্নে গেল চিঠি – এবেলা

আবেদন ফি ২৫০০ টাকা! কলেজ সার্ভিস কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষুব্ধ হবু অধ্যাপকরা, নবান্নে গেল চিঠি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গ কলেজ সার্ভিস কমিশনের (WBCSC) ২০২৬ সালের অধ্যাপক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইউজিসি (UGC)-র নিয়ম লঙ্ঘন থেকে শুরু করে মাত্রাতিরিক্ত আবেদন ফি ধার্য করার মতো একাধিক অভিযোগে সরব হয়েছেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষিত কর্মপ্রার্থীরা। পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল।

ইউজিসির নিয়ম লঙ্ঘন ও বিপুল ফির বোঝা

চাকরিপ্রার্থীদের মূল অভিযোগ, বর্তমান বিজ্ঞপ্তিতে এমন কিছু নিয়ম রাখা হয়েছে যা জাতীয় স্তরের মানদণ্ডের পরিপন্থী। ইউজিসি-র নির্দেশিকা অনুযায়ী অধ্যাপক নিয়োগে পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের ৩০ নম্বর ওয়েটেজ দেওয়ার কথা থাকলেও, কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে মাত্র ১০ নম্বর বরাদ্দ করা হয়েছে। একে গবেষকদের প্রতি চরম বঞ্চনা হিসেবে দেখছেন আবেদনকারীরা। এর পাশাপাশি, অধ্যাপক পদের জন্য ২,৫০০ টাকা আবেদন ফি ধার্য করা হয়েছে, যা দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় অনেকটাই বেশি। একজন বেকার গবেষক বা সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রার্থীর পক্ষে এই বিপুল অর্থ বহন করা কার্যত আসাম্ভব বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, নিয়োগে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে শুধুমাত্র ইন্টারভিউ-নির্ভর পদ্ধতি বাতিল করে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাইয়ের দাবি তুলেছেন প্রার্থীরা।

বয়সসীমা বৃদ্ধি ও সময়সীমা বাড়ানোর দাবি

রাজ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বহু যোগ্য প্রার্থী ইতিমধ্যে বয়সের সীমারেখা পার করে ফেলেছেন। বর্তমানে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়স ৪০ বছর হলেও, চাকরিপ্রার্থীদের দাবি এটি বাড়িয়ে ৪৫ বছর করা হোক, যা অন্য অনেক রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নিয়মে বিদ্যমান। এছাড়া, বর্তমান বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ মে, ২০২৬ নির্ধারিত থাকায় হাতে অত্যন্ত কম সময় রয়েছে। নিয়মের জটিলতা ও অল্প সময়ের কারণে বহু প্রার্থী বিপাকে পড়েছেন। ফলে আবেদনের সময়সীমা আরও অন্তত এক মাস বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রায় ১০ জন পরীক্ষার্থীর স্বাক্ষর সম্বলিত এই চিঠি ইতিমধ্যেই নবান্নে পাঠানো হয়েছে। এই আন্দোলনের জেরে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা স্তরে নিয়োগ প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যোগ্য প্রার্থীরা আবেদন থেকে বঞ্চিত হলে মেধার অবমূল্যায়ন ঘটবে এবং উচ্চশিক্ষার গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এখন রাজ্য সরকার বা কলেজ সার্ভিস কমিশন এই দাবির প্রেক্ষিতে কোনও সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি (Corrigendum) জারি করে কি না, সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *