“আমরা তো হারিনি, কেন ইস্তফা দেব?” কালীঘাট থেকে হুঙ্কার মমতার, গণনায় ‘কারচুপি’র বড় অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দুই শতাধিক আসন জয় করে রাজ্যে ক্ষমতায় আসা নিশ্চিত করেছে বিজেপি। তবে এই ফলপ্রকাশের পরদিনই এক অভাবনীয় অবস্থান নিয়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কালীঘাটে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, এই ফলাফলকে তিনি নৈতিক পরাজয় বলে মানছেন না এবং এই মুহূর্তে ইস্তফা দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই।
গণনায় কারচুপির গুরুতর অভিযোগ
নির্বাচনী ফলাফলকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে তৃণমূলনেত্রী দাবি করেছেন, পরাজয় নয় বরং সুপরিকল্পিত কারচুপির মাধ্যমে তাঁদের হারানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, গণনা চলাকালীন বিভিন্ন কেন্দ্রে তৃণমূলের এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ‘ফর্ম ১৭সি’ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, বিজেপি একক শক্তিতে জেতেনি, বরং নির্বাচন কমিশন সরাসরি বিজেপির নির্দেশে কাজ করে গণনায় ‘খেলা’ ঘুরিয়ে দিয়েছে। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে জয়ের নেপথ্যে স্বচ্ছতা নেই, সেখানে কেন তিনি পদত্যাগ করবেন।
রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনড় অবস্থান রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিয়ে এসেছে। সাধারণত নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন, যা গণতান্ত্রিক রীতি। কিন্তু তৃণমূল সুপ্রিমো এই প্রথা ভাঙার ইঙ্গিত দেওয়ায় সরকার গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণনায় কারচুপির এই অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে দলের কর্মী-সমর্থকদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে চাইছেন। তবে এই অনড় মনোভাবের ফলে আগামী দিনে বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা রাজ্যের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
