বাংলায় বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ে নতুন সরকারকে খোলা চিঠি কাঞ্চন মল্লিকের!

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে। দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে মসনদে বসতে চলেছে বিজেপি। উল্টোদিকে, মাত্র ৪০টি আসনে থমকে গিয়ে বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ঘাসফুল শিবির। এই ঐতিহাসিক পালাবদলের আবহে নতুন সরকারকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি রাজ্যের শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন টলিউড অভিনেতা তথা তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক।
জনগণের রায় ও নতুন প্রত্যাশা
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা প্রতিক্রিয়া দিচ্ছিলেন বিশিষ্টজনেরা। সোমবার নিজের অফিশিয়াল হ্যান্ডেলে একটি খোলা চিঠি পোস্ট করেন কাঞ্চন মল্লিক। ২০২১ সালে উত্তরপাড়ার বিধায়ক হিসেবে জয়ী হলেও, এবার তৃণমূলের পক্ষ থেকে তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়নি। তাঁর পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় লড়লেও বিজেপির দীপাঞ্জন চক্রবর্তীর কাছে পরাজিত হন। এই প্রেক্ষাপটে কাঞ্চনের পোস্টটি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি লিখেছেন, মানুষের না-পাওয়া এবং হতাশা থেকেই হয়তো এই পরিবর্তনের রায় এসেছে। নতুন সরকার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবে এবং তাঁদের পাশে থাকবে—এমনই আশা প্রকাশ করেছেন এই অভিনেতা।
শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের ডাক
কাঞ্চন মল্লিকের বার্তার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, পরিবর্তন যেন শান্তির পথে আসে, হিংসার পথে নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার পালাবদলের সময় বাংলায় যে ধরণের রাজনৈতিক সংঘাতের ইতিহাস রয়েছে, সেই আশঙ্কার জায়গা থেকেই একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে তিনি এই শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, শুধু কাঞ্চন মল্লিকই নন, টলিউডের সুপারস্টার জিৎ এবং অঙ্কুশ হাজরার মতো তারকারাও বাংলায় নতুন সরকার আসার খুশিতে বিজেপিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। রাজনৈতিক এই সমীকরণ বদলের প্রভাবে আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো এবং উন্নয়নমূলক কাজে কী ধরণের গতিপ্রকৃতি লক্ষ্য করা যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে আপাতত জয়ী শিবিরের কাছে বিশিষ্টজনদের একমাত্র প্রার্থনা—উন্নয়ন হোক শান্তিপূর্ণভাবে।
