‘আমরা সংযত বলেই তৃণমূল অক্ষত’, অভিষেককে মারধর ইস্যুতে কী বললেন শমীক? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সোনারপুরে জনরোষের শিকার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তীব্র নিন্দার ঝড় রাজনৈতিক মহলে
ভোট পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত দলীয় কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে চরম নিগ্রহের শিকার হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার দুপুরে তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখায় স্থানীয় জনতা। এক পর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়, তাঁর পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়া হয়। এই অনভিপ্রেত ঘটনায় অভিষেকের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কর্মীর সঙ্গে দেখা করতে সোনারপুরের রাস্তায় নামেন। অভিযোগ, আচমকাই উত্তেজিত জনতা তাঁর ওপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তাঁর প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং বিধায়ক কুণাল ঘোষ। কুণাল ঘোষের অভিযোগ, এই ঘটনার সময় পুলিশ প্রশাসন নিষ্ক্রিয় ছিল এবং কেন সময়মতো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলো না, তা নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ডেরেক ও’ব্রায়েন এ ঘটনার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহি দাবি করেছেন। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও এই হামলাকে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন।
হিংসার রাজনীতি নিয়ে তরজায় শাসক ও বিরোধী
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। তবে এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি জানান, সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজে এই ধরনের সহিংসতা কাম্য নয় এবং হিংসার রাজনীতি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। তবে পুরনো তিক্ততার প্রসঙ্গ টেনে তিনি পাল্টা মন্তব্য করেন, ‘আমরা সংযত আছি বলেই আজ তৃণমূল অক্ষত রয়েছে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে এই ধরনের সহিংস ঘটনা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার অবনতিকেই নির্দেশ করে। ঘটনার কারণ হিসেবে জনরোষকে দায়ী করা হলেও, প্রশাসনের ভূমিকা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার গাফিলতি নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে রাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
