আমাকে চড় মেরেছে দেবলীনা, সংসার ভাঙার নেপথ্যে শাশুড়ি! নীরবতা ভেঙে বিস্ফোরক প্রবাহ – এবেলা

আমাকে চড় মেরেছে দেবলীনা, সংসার ভাঙার নেপথ্যে শাশুড়ি! নীরবতা ভেঙে বিস্ফোরক প্রবাহ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

টলিউডের জনপ্রিয় গায়িকা দেবলীনা নন্দী এবং তাঁর পাইলট স্বামী প্রবাহ নন্দীর বিবাহবিচ্ছেদের জল্পনা দীর্ঘদিন ধরেই বিনোদন জগতের চর্চায় রয়েছে। দেবলীনার আত্মহত্যার চেষ্টা থেকে শুরু করে শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে আনা হেনস্থার অভিযোগের জেরে এতদিন কাঠগড়ায় ছিলেন প্রবাহ। দীর্ঘ ছয় মাস সংবাদমাধ্যম ও সমালোচনার মুখে সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকার পর এবার আইনি বিচ্ছেদ ও দাম্পত্য কলহের কারণ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন তিনি।

দাম্পত্য কলহের নেপথ্যে শাশুড়ির হস্তক্ষেপ

প্রবাহের দাবি, দেবলীনার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত কোনও বড় সমস্যা ছিল না। তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্কের অবনতির মূল কারণ হিসেবে তিনি শাশুড়ির অতিরিক্ত হস্তক্ষেপকে দায়ী করেছেন। প্রবাহ জানান, বিয়ের আগে বা পরে তাঁদের নিজস্ব কোনও ‘স্পেস’ দেওয়া হতো না এবং বেশিরভাগ সময় দেবলীনার মা তাঁদের সঙ্গে থাকতেন। পাশাপাশি, দেবলীনাকে ‘হয় মাকে ছাড়ো, নয় আমাকে’ জাতীয় কোনও শর্ত দেওয়ার অভিযোগও তিনি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। বরং তাঁর অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে স্ত্রী তাঁকে নিয়মিত ব্ল্যাকমেল করতেন।

শারীরিক হেনস্থা ও আত্মহত্যার চেষ্টার পাল্টা দাবি

দেবলীনার আনা শারীরিক নির্যাতনের সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রবাহ। উল্টে তিনি জানিয়েছেন, শর্ট-টেম্পারড স্বভাবের দেবলীনা তাঁকে চড় মেরেছেন এবং কথা না শুনলে রাজনৈতিক ক্ষমতা বা আত্মহত্যার হুমকি দিতেন। অন্তর্বাস গোনার মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগও সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি। চলতি বছরের শুরুতে দেবলীনার ৭৮টি ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন প্রবাহ। তাঁর মতে, এই ঘটনার বিস্তারিত চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন।

এই দীর্ঘ আইনি ও মানসিক টানাপোড়েনের গভীর প্রভাব পড়েছে প্রবাহের পেশাগত জীবনেও। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় তিনি দীর্ঘ ১৫-১৬ দিন বিমান ওড়াতে পারেননি এবং বাধ্য হয়ে পেশা থেকে সাময়িক ছুটি নেন। স্ত্রীর সম্মান রক্ষার্থেই এতদিন চুপ ছিলেন জানিয়ে প্রবাহ স্পষ্ট করেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় দিনের পর দিন তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে যে অপমান করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে এবার আইনি তদন্ত হওয়া জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *