‘আমি ঈশ্বরের দূত নই, সাধারণ মানুষ’— শপথ নিয়ে নতুন অধ্যায় শুরুর ডাক মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সি জোসেফ বিজয়। বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নিজের রাজনৈতিক দর্শন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা স্পষ্ট করেছেন তিনি। দীর্ঘ অভিনয় জীবন শেষে রাজনীতির ময়দানে পা রাখা এই নেতার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দক্ষিণের রাজ্যটিতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
ক্ষমতার কেন্দ্রে শুধুই জনতা
শপথ নেওয়ার পরপরই বিজয় তার বক্তব্যে আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান। নিজেকে কোনো ‘অলৌকিক দূত’ হিসেবে নয়, বরং একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে দাবি করে তিনি বলেন, তার শাসনামলে ক্ষমতার কোনো সমান্তরাল বলয় থাকবে না। সি জোসেফ বিজয় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি নিজেই ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকে সরাসরি শাসনকাজ পরিচালনা করবেন। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ব্যক্তিনির্ভর শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে জনগণের সরাসরি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাই তার মূল লক্ষ্য।
ধর্মনিরপেক্ষতা ও সামাজিক ন্যায়ের অঙ্গীকার
বিজয়ের ভাষণে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের বিষয়টি। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তার মেয়াদে তামিলনাড়ু এক নতুন সামাজিক অধ্যায়ে প্রবেশ করবে, যেখানে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের এই অবস্থান দক্ষিণ ভারতের দ্রাবিড় রাজনীতির মূল স্তম্ভগুলোর সঙ্গেই সংগতিপূর্ণ। তবে তার নিজস্ব ঢঙে ‘একক নেতৃত্ব’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা ভবিষ্যতে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কী পরিবর্তন আনে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
রাজনৈতিক সৌজন্যে প্রধানমন্ত্রী মোদী
আদর্শগতভাবে ভিন্ন মেরুর হওয়া সত্ত্বেও তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাতে ভুলেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বিজয়কে শুভেচ্ছা জানান এবং তার সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন। কেন্দ্রের এই ইতিবাচক সাড়াকে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সৌজন্য হিসেবে দেখছেন। এই শুভেচ্ছাবার্তা আগামী দিনে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
