আর্থিক ধুঁকতে থাকা পাকিস্তানের করুণ দশা, ঋণ মেটাতেও হাত পাতছে দেশটি!

আর্থিক ধুঁকতে থাকা পাকিস্তানের করুণ দশা, ঋণ মেটাতেও হাত পাতছে দেশটি!

তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পাকিস্তান, নতুন ঋণের সন্ধানে ইসলামাবাদ: নেপথ্যে কত বড় ঝুঁকি?

অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মোকাবিলায় আবারও বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি পাকিস্তান। পুরোনো ঋণ পরিশোধের জন্য দেশটির সামনে এখন নতুন করে অর্থ সংগ্রহের চাপ দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩ থেকে ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের বকেয়া ঋণ পরিশোধের তাগিদেই মরিয়া হয়ে নতুন তহবিলের খোঁজ করছে শেহবাজ শরিফের সরকার।

কৌশলী মিত্র হিসেবে সৌদি আরবের ওপর ভরসা

এই সংকটময় সময়ে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। সম্প্রতি সৌদি অর্থমন্ত্রীর পাকিস্তান সফরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা। মূলত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার লক্ষ্য নিয়েছে পাকিস্তান। সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের মতো মিত্র দেশের আর্থিক সহযোগিতা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।

চিন ও আইএমএফ-এর ঋণের বোঝা

পাকিস্তানের অর্থনৈতিক মানচিত্রে সবচেয়ে বড় প্রভাব বিস্তারকারী নাম হলো চিন। সিপেক (CPEC) প্রকল্পের মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধন দৃঢ় হলেও পাকিস্তানের ওপর ঋণের বোঝা ক্রমেই বাড়ছে। তথ্য অনুযায়ী, চিনের কাছে বর্তমানে পাকিস্তানের বকেয়া ঋণের পরিমাণ ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। একদিকে এই বিশাল দায়বদ্ধতা এবং অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ-এর থেকে প্রাপ্ত ৭ বিলিয়ন ডলারের ত্রাণ প্যাকেজ পাকিস্তানের অর্থনীতিকে সাময়িকভাবে বাঁচিয়ে রাখলেও টেকসই সমাধানে তা কতটা কার্যকর, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের দাবি, আইএমএফ-এর সহায়তা পেলেও দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সংকট কাটানোর মতো সক্ষমতা অর্জিত হয়নি।

স্বনির্ভরতার পথে চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, বারবার বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরতা পাকিস্তানের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাদের মতে, কেবলমাত্র অন্যের সাহায্য নিয়ে কোনো দেশের অর্থনীতি টেকসই হতে পারে না। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ের গতি অত্যন্ত ধীর, যা প্রশাসনিক দুর্বলতাকে প্রকাশ্যে আনছে। কাঠামোগত সংস্কার না করলে এবং স্বনির্ভরতার দিকে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই ঋণচক্র থেকে বেরোনো ইসলামাবাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

এক ঝলকে

  • বকেয়া ঋণ পরিশোধের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন প্রায় ৩ থেকে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার।
  • সৌদি আরবের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও নিবিড় করার চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ।
  • চীনের কাছে পাকিস্তানের ঋণের বোঝা ইতিমধ্যে ২৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে।
  • আইএমএফ থেকে প্রাপ্ত ৭ বিলিয়ন ডলারের ত্রাণ প্যাকেজ সাময়িক স্বস্তি দিলেও কাঠামোগত সংস্কারের অভাবে পূর্ণ সাফল্য মিলছে না।
  • অর্থনীতিবিদদের মতে, বিদেশি সহায়তার বিকল্প হিসেবে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতাই এখন পাকিস্তানের একমাত্র পথ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *