ইউনিয়ন রুমে হুক্কা-কন্ডোম*! ‘ভূতুড়ে’ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিধানসভায় মমতাকে তুলোধনা মন্ত্রীর – এবেলা

ইউনিয়ন রুমে হুক্কা-কন্ডোম*! ‘ভূতুড়ে’ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিধানসভায় মমতাকে তুলোধনা মন্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্য বিধানসভায় উচ্চশিক্ষা দফতরের বাজেট আলোচনায় বিগত সরকারের শিক্ষানীতিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বর্তমান মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির বিজ্ঞাপনের আড়ালে তৃণমূল জমানায় শিক্ষাব্যবস্থার যে শোচনীয় অবস্থা হয়েছিল, পরিসংখ্যান দিয়ে তার খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি। নিশানায় ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘ভূতুড়ে’ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাল হকিকত

মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, বিগত সরকার গর্ব করে ৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির কথা বললেও বাস্তব চিত্রটা একেবারে ভিন্ন। তিনি কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরেন:

  • দার্জিলিং হিল ইউনিভার্সিটি: একটি আইটিআই কলেজের ঘরে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ছাত্রসংখ্যা মাত্র ৩৯! মন্ত্রী কটাক্ষ করে বলেন, “পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে কেউ বলেছিল, আর অমনি বলে দিলেন ‘করে দে’!”
  • হাওড়া হিন্দি বিশ্ববিদ্যালয়: উপাচার্য নিজেই জানিয়েছেন তিনি একা, এছাড়া আর কেউ নেই। পড়ুয়ার সংখ্যা মাত্র ১৭৮।
  • রাণী রাসমণি গ্রীন ইউনিভার্সিটি: ২০০ জন পড়ুয়া থাকলেও নিজস্ব কোনও ভবন নেই।
  • অন্যান্য: উত্তরবঙ্গে ২০ কিলোমিটারের মধ্যে দুটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। সুকান্ত মজুমদারকে হারাতে দক্ষিণ দিনাজপুরে রাতারাতি বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করা হয়, যার ৬ মাস অন্তর ভাড়াবাড়ি বদল হয়। হরিচাঁদ গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো পদই (Post) তৈরি হয়নি।

ইউনিয়ন রুমের বিস্ফোরক সত্যি

বিগত শাসকদলের আমলে কলেজ ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “দশটি কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে তরবারি, কন্ডোম, হুক্কার মতো জিনিস পাওয়া গিয়েছে! একজন মন্ত্রী হিসেবে তা বলতেও আমার লজ্জা করছে। এমন একটা ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে আমরা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পেয়েছি।”

ডাবল ইঞ্জিন সরকারের নতুন পদক্ষেপ

এই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে শিক্ষাব্যবস্থাকে টেনে তুলতে নতুন সংকল্পের কথা জানান মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়:

  • স্বচ্ছ নিয়োগ: ব্যাকডোর দিয়ে ৩০-৪০ শতাংশ নম্বর পেয়ে শিক্ষক হওয়া আর চলবে না। গুণগত মান বজায় রেখেই স্বচ্ছভাবে নিয়োগ হবে।
  • এডুসিটি (EduCity): সারা দেশে কেন্দ্র ঘোষিত পাঁচটি ‘এডুসিটি’-র মধ্যে অন্তত একটি যাতে পশ্চিমবঙ্গে আনা যায়, সেই লক্ষ্যে নীতি আয়োগ ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
  • ছাত্রীদের অনুদানে রদবদল: ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তার ৫০ হাজার টাকা আর এককালীন দেওয়া হবে না। আইএসএফ বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকীর প্রস্তাব মেনে, টাকাটি যাতে মেয়ের বিয়ের কার্ড ছাপাতে ব্যয় না হয়, তাই তিনটি ধাপে (প্রথমে ১৫ হাজার, মাঝে ১০ হাজার এবং শেষে ২৫ হাজার) দেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *