“ইতিহাসই জয়ী করল মনমোহনকে”, কয়লা মামলায় ক্লিন চিটের পর মোদী সরকারকে তোপ সোনিয়ার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০১৪ সালের জানুয়ারিতে নিজের শেষ সংবাদ সম্মেলনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের করা এই ভবিষ্যদ্বাণীই যেন আজ সময়ের কষ্টিপাথরে সত্য প্রমাণিত হলো।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট কয়লা ব্লক বণ্টন মামলায় ড. মনমোহন সিংকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করে সিবিআই-এর দেওয়া ক্লিন চিট বহাল রেখেছে এবং নিম্ন আদালতের সমস্ত সমন বাতিল করেছে। এই ঐতিহাসিক রায়ের পর ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ লেখা এক বিশেষ নিবন্ধে বর্তমান কেন্দ্র সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী।
‘সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চুরমার’
সোনিয়া গান্ধী তাঁর প্রবন্ধে লিখেছেন, ইতিহাস ড. মনমোহন সিংকে একজন দূরদর্শী, নম্র ও সফল প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই মনে রাখবে। তাঁর বিরুদ্ধে আমলাতন্ত্র, সংবাদমাধ্যম, সুশীল সমাজ এবং তৎকালীন বিরোধী দল মিলে এক সুপরিকল্পিত মিথ্যা প্রচারণা চালিয়েছিল। তবে আদালতের এই রায় সেই মর্মান্তিক অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়েছে। কিন্তু চরম দুঃখের বিষয়, ২০২৪ সালের ২৭শে ডিসেম্বর প্রয়াত হওয়া ড. সিং নিজে আজ এই ঐতিহাসিক সত্য দেখে যেতে পারলেন না।
মোদী সরকারকে বেনজির আক্রমণ
বর্তমান বিজেপি সরকারকে নিশানা করে সোনিয়া গান্ধী বলেন, সততা ও স্বচ্ছতার নিরিখে মনমোহন সিংয়ের রেকর্ড আর বর্তমান সরকারের কাজের স্টাইল সম্পূর্ণ বিপরীত। ২০১৭ সালে রাজ্যসভায় নরেন্দ্র মোদীর “রেইনকোট পরে স্নান” সংক্রান্ত কটু মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তিনি একে সংসদীয় ইতিহাসের এক ‘কালো অধ্যায়’ বলে অভিহিত করেন।
পাশাপাশি তিনি অভিযোগ তোলেন যে, বর্তমান সরকার ইডি ও সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যেখানে বিরোধী নেতাদের বিজেপিতে যোগ দিলেই সব দোষ মাফ হয়ে যায়।
মনমোহন যুগের সুশাসন ও অর্থনৈতিক সাফল্য
মনমোহন সিংয়ের আমলের বিভিন্ন অর্জনের কথা স্মরণ করিয়ে সোনিয়া গান্ধী উল্লেখ করেন:
- অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: ড. সিংয়ের দক্ষ নেতৃত্বে ভারত অভূতপূর্ব আর্থিক বৃদ্ধি ও বিদেশি বিনিয়োগের সাক্ষী থেকে ভারতকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করেছিল।
- গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা: সেই সময়ে পেলেট গান বা কোনো ভয়ের পরিবেশ ছাড়াই ছাত্র-জনতা স্বাধীনভাবে প্রতিবাদ করতে পারত।
- স্বচ্ছতা: ড. সিং নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন করে দেশ ও সংবাদমাধ্যমের কাছে জবাবদিহি করতেন।
- ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি: তাঁর রাজনৈতিক সাহসের ফলেই ভারত-মার্কিন ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন হয়।
সোনিয়া গান্ধীর মতে, তৎকালীন সরকারের অনন্য সাফল্য ও সুশাসন থেকে দেশবাসীর নজর ঘোরাতেই ড. মনমোহন সিংয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের পাহাড় তৈরি করা হয়েছিল। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই সব ষড়যন্ত্র উভে গিয়ে আজ সত্যের জয় হয়েছে।
