ইভিএম কারচুপিতে জিরো টলারেন্স, ফলতায় পুনর্নির্বাচনের কড়া হুঁশিয়ারি কমিশনের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় ইভিএম-এর ওপর টেপ লাগিয়ে বিজেপি প্রার্থীর নাম ও প্রতীক ঢেকে রাখার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, ওয়েব কাস্টিং ও পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টের ভিত্তিতে এই ধরনের জালিয়াতি রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে। যেখানেই ইভিএম-এ কারচুপির প্রমাণ মিলবে, সেখানেই ভোট বাতিল করে নতুন করে নির্বাচন করা হবে।
আতর ও টেপ বিতর্ক
ফলতার ১৮৬, ২২৬, ২৩৫, ২৪১ ও ২৫২ নম্বর বুথসহ মগরাহাটের বেশ কিছু কেন্দ্রে ইভিএম-এ শুধুমাত্র টেপ নয়, বরং তীব্র গন্ধযুক্ত আতর ব্যবহার করার অভিযোগও উঠেছে। ভোটারদের বিভ্রান্ত করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে কমিশন জানিয়েছে, নির্দিষ্ট বুথগুলোতে কারচুপির পরিমাণ বেশি হলে প্রয়োজনে পুরো বিধানসভা কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে এবং আগামী বৃহস্পতি বা শুক্রবারের মধ্যেই পুনরায় ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
ভোটের ময়দানে উত্তেজনা
প্রথম দফার ভোট তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ হলেও দ্বিতীয় দফায় ফলতা ও ভবানীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কিছু জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লাঠিচার্জ করতে হয়। বিরোধীদের অভিযোগের তির মূলত শাসকদলের দিকে থাকলেও কমিশন সাফ জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কোনো প্রকার আপস করা হবে না। এই কড়া বার্তার মাধ্যমে কমিশন আদতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক করল যে, বেআইনি পথে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে তার ফল হবে ভোট বাতিল।
এক ঝলকে
- ফলতায় ইভিএম-এ টেপ লাগিয়ে প্রার্থীর নাম ঢাকার ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
- টেপের পাশাপাশি বেশ কিছু বুথে ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে আতর ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
- অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্দিষ্ট বুথ বা পুরো কেন্দ্রে আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই পুনর্নির্বাচন হতে পারে।
- অশান্তি রুখতে ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দ্বিতীয় দফায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
