বারবার কেন ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়েই সরব শুভেন্দু? ভবানীপুরের এই ওয়ার্ডের রাজনৈতিক সমীকরণ জানলে অবাক হবেন

ভবানীপুর বিধানসভা উপনির্বাচনের তপ্ত আবহে সবথেকে বেশি চর্চিত হয়ে উঠেছে ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কেন্দ্র হওয়ার সুবাদে এমনিতেই এই এলাকাটি নজরে থাকে, তবে এবারের লড়াইয়ে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর ধারাবাহিক অভিযোগ এই ওয়ার্ডটিকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। মূলত একবালপুর, মোমিনপুর ও খিদিরপুরের একাংশ নিয়ে গঠিত এই এলাকাটি বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত।
তৃণমূলের গড় ও শুভেন্দুর টার্গেট
নির্বাচনী পরিসংখ্যানে এই ওয়ার্ডটির গুরুত্ব অপরিসীম। ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস শুধুমাত্র এই ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই ২১,০০০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে লিড পেয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, এই একটি ওয়ার্ড বাদ দিলে বাকি সব এলাকায় তিনি এগিয়ে থাকবেন। তাঁর অভিযোগ, এই ওয়ার্ডের নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করতে শাসকদল বহিরাগতদের ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে, যা মূলত কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
ভৌগোলিক গুরুত্ব ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট
এই ওয়ার্ডটি কলকাতা পুরসভার ৯ নম্বর বোরোর অন্তর্গত এবং এখানে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন অবস্থিত। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলের থানার সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়ে নবান্নের নেওয়া সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। একবালপুর ও ওয়াটগঞ্জ থানার কিছু অংশ আলিপুর থানার অধীনে আনা হলেও, স্থানীয় আরজিতে ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডকে পুনরায় একবালপুর থানার আওতায় ফিরিয়ে আনা হয়। দীর্ঘদিনের তৃণমূল কাউন্সিলর শামিমা রেহান খানের নেতৃত্বাধীন এই এলাকাটি তাই শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরের কাছেই মর্যাদার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক ঝলকে
- ভবানীপুরের ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল গত বিধানসভা নির্বাচনে ২১,০০০ ভোটের লিড পেয়েছিল।
- এই ওয়ার্ডটি মুখ্যমন্ত্রীর বাসস্থান ও কালীঘাট সংলগ্ন হওয়ায় রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর।
- শুভেন্দু অধিকারীর দাবি অনুযায়ী, এই ওয়ার্ডে তৃণমূল অশান্তির চেষ্টা করলেও কেন্দ্রীয় বাহিনী তা রুখে দিয়েছে।
- ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভোট পড়লে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিজেপি শিবির।
