ভারতীয় ক্রিকেটে নয়া ইতিহাস! সব বাধা টপকে মাঠের দখল নিলেন প্রথম রূপান্তরকামী আম্পায়ার রিতিকা শ্রী

ভারতীয় ক্রিকেটে নয়া ইতিহাস! সব বাধা টপকে মাঠের দখল নিলেন প্রথম রূপান্তরকামী আম্পায়ার রিতিকা শ্রী

ভারতীয় ক্রিকেটে এক অনন্য ইতিহাস গড়লেন রিতিকা শ্রী। দেশের প্রথম নথিভুক্ত রূপান্তরকামী আম্পায়ার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তিনি সমাজের প্রচলিত ধারণা ও লিঙ্গবৈষম্যের দেওয়ালে সজোরে আঘাত করেছেন। ২০১৯ সালে মোহালিতে আইপিএল ম্যাচ দেখার সময় যে স্বপ্ন বোনা শুরু হয়েছিল, নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ তা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। সালেম ও নামাক্কালের স্থানীয় পর্যায়ে ৩০০-র বেশি ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন রিতিকা এখন আম্পায়ারিং জগতে এক অনুপ্রেরণার নাম।

লাঞ্ছনা থেকে লড়াইয়ের ময়দান

রিতিকার এই যাত্রাপথ মোটেও মসৃণ ছিল না। মাত্র সাত মাস আগে কোয়ম্বত্তূরের একটি মাঠে আম্পায়ারিং করতে গিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে চূড়ান্ত হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল তাঁকে। রূপান্তরকামী হওয়ার অপরাধে তাঁকে মাঠে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় এবং লাঠি নিয়ে তাড়া করা হয়। এই অপমান রিতিকাকে দমাতে পারেনি, বরং তাঁর জেদ বাড়িয়ে দিয়েছিল। একসময় ‘মুথুরাজ’ নামে পরিচিত থাকা এই আম্পায়ার লকডাউনের সময় চাকরি হারিয়ে পূর্ণসময়ে ক্রিকেটে মনোনিবেশ করেন এবং সালেম ক্রিকেট সংস্থার সহযোগিতায় নিজের আম্পায়ারিং দক্ষতাকে শাণিত করেন।

ক্রিকেট মাঠে নতুন দিগন্ত

বর্তমানে রিতিকা মাঠে নামলে খেলোয়াড় ও সহকর্মীদের সমীহ আদায় করে নিচ্ছেন। শুরুতে পুরুষ আম্পায়ার ও ক্রিকেটারদের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচানো এবং তাঁদের বিশ্বাস অর্জন করা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। শারীরিক চোট ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, মাঠের সঠিক সিদ্ধান্তই একজন আম্পায়ারের আসল পরিচয়। রিতিকার এই সাফল্য দেশের ক্রীড়াঙ্গনে রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের জন্য মর্যাদাপূর্ণ পেশার পথ আরও প্রশস্ত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • রিতিকা শ্রী ভারতের প্রথম নথিভুক্ত রূপান্তরকামী আম্পায়ার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন।
  • সাত মাস আগে একটি মাঠে প্রবেশের সময় নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছিলেন তিনি।
  • পেশাদার আম্পায়ার হওয়ার আগে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে ৩০০টির বেশি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন।
  • সালেম ক্রিকেট সংস্থার সমর্থনে এবং নিজের যোগ্যতায় তিনি ক্রিকেটের মূল ধারায় জায়গা করে নিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *