উইল ছাড়াই বাবার মৃত্যু হলে সম্পত্তি পাবে কে? বিবাহিত মেয়েদের আইনি অধিকার নিয়ে কী বলছে আইন? – এবেলা

উইল ছাড়াই বাবার মৃত্যু হলে সম্পত্তি পাবে কে? বিবাহিত মেয়েদের আইনি অধিকার নিয়ে কী বলছে আইন? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নয়াদিল্লি: কোনো ব্যক্তি যদি তাঁর সম্পত্তির বিষয়ে কোনো উইল (ইচ্ছাপত্র) না করেই হঠাৎ মারা যান, তবে সেই সম্পত্তির মালিকানা কার হাতে যাবে? বিবাহিত মেয়েরা কি সেই সম্পত্তিতে ভাগ পাবেন? ভারতীয় আইন এই বিষয়ে কী বলছে, তা প্রত্যেকেরই জেনে রাখা জরুরি।

সাধারণত, পিতা-মাতা তাঁদের জীবদ্দশাতেই উইল করে যান, যাতে তাঁদের মৃত্যুর পর সন্তানরা সম্পত্তি নিয়ে কোনো বিবাদে না জড়ায়। উইলের মাধ্যমে সম্পত্তি বণ্টন হলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা বা আদালতের মামলার ঝুঁকি থাকে না। কিন্তু যদি কোনো ব্যক্তি উইল না করেই মারা যান, তবে ছেলে ও মেয়ের মধ্যে সম্পত্তি কীভাবে বণ্টিত হবে? জেনে নিন এর আইনি নিয়মাবলি।

মেয়েদের সমান অধিকার:

বাবার স্বঅর্জিত (নিজের উপার্জিত) সম্পত্তিতে মেয়ের বিয়ে হোক বা না হোক—ছেলের মতোই তাঁর সমান অধিকার রয়েছে। ‘হিন্দু উত্তরাধিকার আইন ২০০৫’ (Hindu Succession Act 2005) অনুযায়ী, বাবার সম্পত্তিতে ছেলের যে আইনি অধিকার আছে, মেয়েরও ঠিক একই অধিকার রয়েছে। বাবা যদি কোনো উইল না করে মারা যান, তবে তাঁর প্রথম শ্রেণির আইনি ওয়ারিশদের (Class-1 Heirs) মধ্যে সম্পত্তি সমানভাবে ভাগ হবে।

তবে মনে রাখতে হবে, বাবা যদি তাঁর জীবদ্দশায় নিজের উপার্জিত সম্পত্তি উইল করে অন্য কাউকে দিয়ে যান, তবে মেয়েরা সেখানে কোনো দাবি করতে পারবেন না। কিন্তু সম্পত্তিটি যদি নিজের উপার্জিত না হয়ে পৈতৃক সম্পত্তি (Ancestral Property) হয়, তবে সেখানে জন্মসূত্রেই ছেলে ও মেয়ে উভয়ের সমান অধিকার থাকে।

ডিভোর্সি নারীর সন্তানদের অধিকার:

অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে, বিবাহবিচ্ছেদের পর কোনো নারী কি তাঁর প্রাক্তন স্বামীর পৈতৃক সম্পত্তিতে নিজের সন্তানদের জন্য ভাগ দাবি করতে পারেন? উত্তরাধিকার আইন বলছে, পৈতৃক সম্পত্তিতে প্রত্যক্ষ ওয়ারিশদের অধিকার সবসময় বজায় থাকে। দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেলেও কিংবা স্বামী যদি দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্য সন্তানের পিতা হন, তাও প্রথম পক্ষের সন্তানদের বাবার পৈতৃক সম্পত্তিতে আইনি অধিকার সম্পূর্ণ বহাল থাকবে।

উইল করা কেন জরুরি?

কষ্টের উপার্জনে গড়া সম্পত্তি নিয়ে সন্তানরা যাতে পরবর্তীতে কোনো ঝামেলায় না জড়ায়, তার জন্য জীবদ্দশাতেই উইল করে যাওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন—কারো যদি দুটি বাড়ি এবং দুটি সন্তান থাকে, তবে তিনি উইলে স্পষ্ট লিখে যেতে পারেন যে তাঁর মৃত্যুর পর কোন সন্তান কোন বাড়িটি পাবে। এমনকি তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিন সম্পত্তির ওপর পূর্ণ অধিকার তাঁরই থাকবে—এমন নিয়মও উইলে স্পষ্ট করে দেওয়া সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *