একই কনেকে বিয়ে করতে পৌঁছালেন দুই সুসজ্জিত বর, এরপর শুরু হয় হাইভোল্টেজ ড্রামা! বিভ্রান্ত বরযাত্রীরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগরে এক অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী থাকলেন গ্রামবাসীরা। একই কনেকে বিয়ে করতে রাজকীয় বেশে হাজির হলেন দুই বর। দুই পক্ষই দাবি করতে থাকে যে তাদের সঙ্গেই ওই তরুণীর বিয়ে হওয়ার কথা। এই নিয়ে বারাতিদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে বিয়ের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়। পরিস্থিতি সামলাতে শেষ পর্যন্ত পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।
ভুল বোঝাবুঝি ও বিয়ের প্রস্তুতি
ঘটনার সূত্রপাত কনের বাবার নেওয়া এক তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত থেকে। প্রথমে শামলির প্রদীপ কুমারের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছিল, কিন্তু বিয়ের ঠিক আগের দিন প্রদীপের ভাইয়ের মৃত্যু হয়। শোকের আবহে বিয়ে হবে কি না, তা নিয়ে প্রদীপের পরিবার কনেপক্ষকে নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি। বিয়ের আয়োজন সম্পূর্ণ থাকায় লোকলজ্জার ভয়ে বাবা তড়িঘড়ি মেরঠের আকাশের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে ঠিক করেন। কিন্তু বিয়ের দিন দেখা যায়, পুরনো ও নতুন—উভয় বরই তাদের দলবল নিয়ে কনের দরজায় উপস্থিত।
আইনি জটিলতা ও পুলিশি পদক্ষেপ
দুই পক্ষের ঝগড়া যখন চরমে পৌঁছায়, তখন পুলিশ এসে নথিপত্র যাচাই শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় চাইল্ড হেল্পলাইনকে খবর দেওয়া হয়। দেখা যায়, কনে আসলে নাবালিকা। পরিবারের সদস্যরা তরুণীর বয়সের কোনো সঠিক প্রমাণ বা শংসাপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত বিয়ের উৎসব বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং কোনো বরই আর কনেকে নিয়ে ফিরতে পারেননি।
সামাজিক প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
এই ঘটনার জেরে দুটি পরিবারকেই চরম অপমানের সম্মুখীন হতে হয়েছে। নাবালিকা বিবাহের চেষ্টার অভিযোগে কনেপক্ষ আইনি জটিলতায় জড়িয়েছে। পুলিশ ওই তরুণীকে শিশু কল্যাণ সমিতির হেফাজতে পাঠিয়েছে এবং তার সঠিক বয়স নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো হচ্ছে। উভয় বরপক্ষই শেষ পর্যন্ত খালি হাতে গ্রামে ফিরে গিয়েছে।
এক ঝলকে
- মুজফফরনগরে এক নাবালিকাকে বিয়ে করতে একই সাথে দুই বর হাজির হওয়ায় রণক্ষেত্র বিয়ের আসর।
- প্রথম বরের পরিবার থেকে বিয়ের বার্তা না পাওয়ায় কনের বাবা দ্বিতীয় জনের সঙ্গে তড়িঘড়ি বিয়ে ঠিক করেছিলেন।
- গোলমালের খবর পেয়ে পুলিশ ও চাইল্ড হেল্পলাইন পৌঁছে কনেকে নাবালিকা হিসেবে শনাক্ত করে।
- বিয়ে বাতিল হওয়ার পর তরুণীকে শিশু কল্যাণ সমিতির হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং দুই বারাতিই ফিরে গিয়েছে।
