একেন বাবুর মাথায় চুল গজালেও তৃণমূল আর ফিরবে না, ফলতায় শমীকের তীব্র কটাক্ষ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের হাইভোল্টেজ পুনর্নির্বাচনের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে চড়ল। শনিবার এই কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রচারের পর, রবিবার ফলতার মাটিতে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলায় বিজেপি সরকার গড়ার পর, এই পুনর্নির্বাচনেও জয় নিয়ে দল যে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী, তা শমীকের বক্তব্য থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট। তৃণমূলকে রাজনৈতিকভাবে ‘অতীত’ আখ্যা দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষকে এক নতুন জমানার আশ্বাস দেন।
ডায়মন্ড হারবারে ক্ষমতার সমীকরণ বদল
এক সময়ের তৃণমূলের অটুট দুর্গ হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও ডায়মন্ড হারবার লোকসভা এলাকার অন্তর্গত ফলতায় দাঁড়িয়ে শমীক ভট্টাচার্য শাসকদলের পূর্বতন শাসনব্যবস্থাকে তুলোধনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের আমলে নেতা, মন্ত্রী এবং পুলিশ-প্রশাসন মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল। সেই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বিজেপির কর্মীরা যেভাবে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই চালিয়েছেন, তার প্রশংসা করেন তিনি। রাজ্য সভাপতির দাবি, বাংলার মানুষ ইতিমধ্যেই তৃণমূলকে রাজনৈতিকভাবে নির্বাসিত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে স্বভাবসিদ্ধ রসিকতার সুরে তিনি বলেন, একেন বাবুর মাথায় চুল গজালেও গজাতে পারে, কিন্তু তৃণমূলের পক্ষে এ রাজ্যে আর ক্ষমতায় ফেরা সম্ভব নয়।
অভিষেককে পাল্টা তোপ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
নির্বাচনী প্রচারের সময় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৪ তারিখের পর ‘ডিজে’ বাজানোর যে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তার পাল্টা জবাব দেন শমীক ভট্টাচার্য। উপহাসের ছলে তিনি বলেন, এখন ডিজের বদলে তৃণমূল নেতাদের ঘরে ঘরে বিষাদের হারমোনিয়াম বাজছে। নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর রাজনৈতিক সমীকরণ যেভাবে বদলেছে, তাতে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব জনরোষের ভয়ে ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শমীক ভট্টাচার্যের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান আগামী ২১ মে ফলতার পুনর্নির্বাচনে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মনোবল আরও বাড়িয়ে দেবে এবং এই কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফলে এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
