এবিভিপির মোকাবিলায় নতুন ছক এসএফআইয়ের, রণকৌশল শিখতে ভিনরাজ্যের ধুরন্ধরদের ভরসা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর কলেজ ক্যাম্পাসগুলোর সমীকরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একসময়ের দাপুটে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি) কার্যত উধাও হয়ে যাওয়ায় এখন শিক্ষাঙ্গনের দখল নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে আরএসএস অনুমোদিত এবিভিপি এবং সিপিআইএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই। এই নতুন পরিস্থিতিতে গেরুয়া শিবিরের ছাত্র সংগঠনের মোকাবিলায় এক বিশেষ রণকৌশল গ্রহণ করল এসএফআই। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে এবিভিপির সঙ্গে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা থাকা অভিজ্ঞ নেতা-নেত্রীদের বাংলা সফরে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।
রণকৌশলের পরিবর্তন ও উদ্দেশ্য
এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে জানিয়েছেন, বিজেপির শিক্ষানীতি ও ক্যাম্পাস রাজনীতির মডেলের বিরুদ্ধে লড়াই এখন সময়ের দাবি। তাঁর অভিযোগ, গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ বা ত্রিপুরার মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে শিক্ষার বেসরকারিকরণ ও দুর্নীতির যে চিত্র দেখা গেছে, তা বাংলায় ঢুকতে শুরু করেছে। মূলত ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধ্বংস করে গেরুয়া মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার যে প্রবণতা এবিভিপি দেখাচ্ছে, তার বিরুদ্ধেই এই বিশেষ প্রস্তুতি। দেবাঞ্জন দে-র মতে, এটি কেবল সংগঠন দখলের লড়াই নয়, বরং শিক্ষাঙ্গনের সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও ছাত্র রাজনীতিকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াই।
ভোলবদল ও আগামী চ্যালেঞ্জ
এসএফআইয়ের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই বহু প্রাক্তন টিএমসিপি সমর্থক রাতারাতি এবিভিপির পতাকা হাতে তুলে নিয়েছে, যা ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে বিঘ্নিত করছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় এসএফআই এখন সর্বভারতীয় স্তরের অভিজ্ঞ কমরেডদের সহায়তায় নতুন লড়াইয়ের রূপরেখা তৈরি করছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিও জানানো হয়েছে। দেবাঞ্জন দে স্পষ্ট জানিয়েছেন, সেমিস্টার পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্বাচনের নতুন গাইডলাইন তৈরি করে দ্রুত ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা উচিত। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ছাত্র রাজনীতির এই মেরুকরণ আগামী দিনে বাংলার শিক্ষাঙ্গনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
