এমবিএ কোর্সে বড় বদল, ১ বছর পরেই মিলবে ডিপ্লোমা ডিগ্রির সুযোগ দিচ্ছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উচ্চশিক্ষায় বড়সড় বদল এনে ম্যানেজমেন্ট বা ব্যবসায়িক প্রশাসনের পাঠক্রমে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৬-২০২৮ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার অফ বিজ়নেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) কোর্সে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ়নেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের এই কোর্সের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি মূলত দু’বছরের কোর্স হলেও কোনো পড়ুয়া চাইলে এক বছর পড়ার পরও কোর্সটি ছেড়ে বেরিয়ে যেতে পারবেন। সেই ক্ষেত্রে ওই পড়ুয়াকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি প্রদান করা হবে। জাতীয় শিক্ষানীতির আদলে তৈরি এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থীরা মাঝপথে পড়াশোনা ছাড়লেও তাদের এক বছরের শ্রম ও সময় বৃথা যাবে না।
ভর্তির যোগ্যতা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মর্যাদাপূর্ণ কোর্সে আবেদনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে কড়া মাপকাঠি নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদনকারীকে অবশ্যই কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং, টেকনোলজি, মেডিক্যাল সায়েন্সেস অথবা সমতুল্য কোনো বিষয়ে স্নাতক হতে হবে। এর পাশাপাশি ক্যাট (CAT) বা ম্যাট (MAT) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। চূড়ান্ত মেধা তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, ক্যাট বা ম্যাট-এর প্রাপ্ত নম্বর, গ্রুপ ডিসকাশন (জিডি), পার্সোনাল ইন্টারভিউ (পিআই) এবং পূর্বের পেশাদারি অভিজ্ঞতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হবে।
আবেদন পদ্ধতি ও গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা
আগ্রহী প্রার্থীদের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তির নির্দেশিকা মেনে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ১৯ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। এরপর আগামী ২৬ এবং ২৭ জুন ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার দিন ধার্য করা হয়েছে। এই কোর্সে অসংরক্ষিত বা সাধারণ বিভাগের প্রার্থীদের জন্য আবেদনমূল্য ৭৫০ টাকা এবং সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীদের জন্য ১৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্তের প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, এক বছর পর কোর্স ছাড়ার এই ‘এক্সিট অপশন’ বা নমনীয় নীতি শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে মানসিক ও আর্থিক চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেবে। অনেক সময় পারিবারিক বা আর্থিক কারণে পড়ুয়ারা মাঝপথে পড়াশোনা ছাড়তে বাধ্য হন। নতুন এই ব্যবস্থার ফলে তারা ডিগ্রিহীন হয়ে পড়বেন না, বরং অর্জিত ডিপ্লোমা সার্টিফিকেটের সাহায্যে সহজেই কর্পোরেট বা পেশাদার ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। একই সাথে উচ্চশিক্ষায় ড্রপ-আউটের হার কমিয়ে পেশাদার মানবসম্পদ তৈরিতে এটি বড় ভূমিকা রাখবে।
