ঐতিহাসিক জয়ের পর হাওড়া স্টেশনে ঝালমুড়ি বিতরণ এবং প্রধানমন্ত্রীর সেই ঝাড়গ্রাম সফরের স্মৃতি মনে করালেন বিজেপি সমর্থকেরা!

ঐতিহাসিক জয়ের পর হাওড়া স্টেশনে ঝালমুড়ি বিতরণ এবং প্রধানমন্ত্রীর সেই ঝাড়গ্রাম সফরের স্মৃতি মনে করালেন বিজেপি সমর্থকেরা!

নির্বাচনের ফলাফলে বিপুল জয়ের পর রাজ্যজুড়ে গেরুয়া শিবিরের উল্লাস এখন তুঙ্গে। তবে প্রথাগত মিষ্টিমুখ বা আবির খেলার বাইরে গিয়ে মঙ্গলবার হাওড়া স্টেশনে দেখা গেল এক অভিনব চিত্র। ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে ঝালমুড়ি বিলি করে এক ভিন্ন স্বাদের বিজয় উৎসবে মেতে উঠলেন বিজেপি সমর্থকেরা। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার এই প্রয়াস যেমন যাত্রীদের নজর কেড়েছে, তেমনই এর পেছনে থাকা রাজনৈতিক বার্তাও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

ঝাড়গ্রামের সেই স্মৃতি এবং প্রধানমন্ত্রীর সরলতা

বিজেপি সমর্থকদের এই ঝালমুড়ি বিতরণের পেছনে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি বিশেষ মুহূর্ত। নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন ঝাড়গ্রামে মোদী একটি সাধারণ ছোট দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছিলেন। সমর্থকদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী এই সাধারণ কাজের মাধ্যমেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে তাঁর কাছে ছোট-বড় বা ধনী-দরিদ্রের কোনও ভেদাভেদ নেই। হাওড়া স্টেশনে সেই একই খাবার সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দিয়ে তাঁরা মোদীর সেই ‘অন্ত্যোদয়’ বা সমাজের শেষ প্রান্তের মানুষের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দর্শনকেই তুলে ধরতে চেয়েছেন।

রাজনৈতিক প্রতীকী ও গণসংযোগের নতুন কৌশল

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের কর্মসূচি কেবল জয়ের আনন্দ উদযাপন নয়, বরং সাধারণ মানুষের মনের কাছাকাছি পৌঁছানোর একটি সুকৌশলী প্রয়াস। অভিজাত বা ধনাঢ্য সংস্কৃতির বদলে ঝালমুড়ির মতো বাংলার শিকড় সংলগ্ন খাবারকে বেছে নিয়ে বিজেপি কর্মীরা ভোটারদের সঙ্গে আত্মিক যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ জীবনযাপনের ইমেজকে তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দেওয়ার এই পদ্ধতি আগামী দিনেও তাঁদের জনসংযোগের মূল হাতিয়ার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ যাত্রীদের অনেকেই দলীয় সমর্থকদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সেই ঝাড়গ্রাম সফরের কথা স্মরণ করেছেন।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *