ওমান উপসাগরে ফের মার্কিন নিশানায় ভারতীয় নাবিকরা, বাড়ছে কূটনৈতিক উত্তেজনা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিকদের বহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজে ফের মার্কিন হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ছড়াল নয়াদিল্লিতে। বৃহস্পতিবার এম/টি জলবীর (M/T Jalveer) নামের একটি তেলবাহী জাহাজে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে মার্কিন বাহিনী। হামলায় জাহাজটি অচল হয়ে পড়লেও তাতে থাকা ২০ জন ভারতীয় নাবিককে সুরক্ষিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে গত চার দিনের মধ্যে ভারতীয় নাবিকদের উপস্থিত থাকা জাহাজে এটি তৃতীয় মার্কিন হামলা, যা আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের নিরাপত্তাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।
হামলার কারণ ও মার্কিন অবস্থান
আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর দাবি, এম/টি জলবীর জাহাজটি ইরান থেকে তেল পরিবহণের চেষ্টা করছিল এবং মার্কিন বাহিনীর নির্দেশ বারবার অমান্য করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত এপ্রিল মাস থেকে ইরানের তেল রফতানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এক কঠোর সামুদ্রিক অবরোধ কার্যকর করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই অবরোধের আওতায় ইরানের বন্দর থেকে আসা বা সেখানে যাওয়া যে কোনও দেশের জাহাজকেই তল্লাশি, বাধা বা প্রয়োজনে অচল করে দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে ওয়াশিংটন। সেন্টকম জানিয়েছে, অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ইতিমধ্যেই ৯টি জাহাজ অচল করেছে এবং ১৩৫টি জাহাজকে পথ পরিবর্তনে বাধ্য করেছে।
ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ধারাবাহিক হামলার জেরে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। এর আগে এমটি সেট্টেবেলো (MT Settebello) এবং এমটি মারিভেক্স (MT Marivex) জাহাজেও আঘাত হানে মার্কিন বাহিনী। সেট্টেবেলোতে হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এই মর্মান্তিক প্রাণহানি এবং বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে সামরিক আগ্রাসনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত। ইতিমধ্যেই নয়াদিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করা হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন মেনে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে হবে এবং বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং মিত্র দেশগুলির সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কে সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
