কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী! প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে নিজের কনভয়েই চলল কাঁচি, দৃষ্টান্ত গড়লেন মোদী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকট এবং জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তিগত ও সরকারি পর্যায়ে কৃচ্ছ্রসাধনের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় দেশবাসীকে পেট্রোল-ডিজেল ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ বর্জনের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তবে কেবল উপদেশ নয়, নিজের নিরাপত্তা ও সরকারি প্রোটোকল বজায় রেখে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নিজের গাড়িবহরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেশবাসীর সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই
হায়দ্রাবাদে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ সংস্কৃতি গ্রহণ এবং স্বর্ণ কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। এর পরপরই তাঁর নিজস্ব গুজরাট ও আসাম সফরে সেই বার্তার বাস্তবায়ন লক্ষ্য করা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসপিজি)-র কড়া প্রোটোকল বজায় রেখেই তাঁর কনভয় থেকে বেশ কিছু গাড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বরোদা ও গুয়াহাটির কর্মসূচিতে এই সীমিত সংখ্যক গাড়িবহর দেখা গেছে, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদ সাশ্রয়ের এক শক্তিশালী বার্তা বহন করে।
রাজ্যগুলোতেও শুরু হয়েছে কৃচ্ছ্রসাধন
প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছেন। উত্তরপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের গাড়িবহর ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশপাশি জনপ্রতিনিধিদের সপ্তাহে অন্তত একদিন গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার হিমন্ত বিশ্ব শর্মার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সকল মুখ্যমন্ত্রীদের কাছে একটি বিশেষ ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ পাঠানো হয়েছে। এতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং সশরীরে উপস্থিতির পরিবর্তে অনলাইন বৈঠকের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সংকট মোকাবিলায় সম্ভাব্য প্রভাব
পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার ফলে জ্বালানি আমদানিতে যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা প্রশমন করাই এই কৃচ্ছ্রসাধনের মূল লক্ষ্য। সরকারি শীর্ষ পর্যায় থেকে গাড়িবহর কমানোর ফলে জ্বালানি খরচ হ্রাসের পাশাপাশি আমজনতার মধ্যেও সচেতনতা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে প্রশাসনিক ব্যয়ভার কমিয়ে সংকটের দিনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
