কলকাতা হাইকোর্টে বড় ধাক্কা মমতার, বিরোধী দলনেতা হিসেবে বহাল ঋতব্রতই! – এবেলা

কলকাতা হাইকোর্টে বড় ধাক্কা মমতার, বিরোধী দলনেতা হিসেবে বহাল ঋতব্রতই! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদ ঘিরে চলা দীর্ঘ টানাপোড়েনে অবশেষে বড় স্বস্তি পেলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে তৃণমূল কংগ্রেসের করা মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট তাৎক্ষণিক কোনো স্থগিতাদেশ জারি করতে অস্বীকার করেছে। এর ফলে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈধতা আপাতত অটুট থাকছে।

আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত

নির্বাচনোত্তর পর্বে পরাজয়ের পর শাসক দলের অন্দরেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ৬৪ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে তিনি নিজেকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে দাবি করেন এবং বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু তাকে সেই স্বীকৃতিও প্রদান করেন। স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে তৃণমূল। তাদের অভিযোগ, বিধানসভায় প্রতিটি দলের প্রকৃত বিধায়ক সংখ্যা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা না করে স্পিকার নিজের ইচ্ছামতো এই নিয়োগ করেছেন, যা সংসদীয় গণতন্ত্রের ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক ভারসাম্য ক্ষুণ্ণ করেছে। এই মর্মে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্তের উপর স্থগিতাদেশ দাবি করে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ

আদালতের এই রায় রাজ্যের বর্তমান শাসক শিবিরের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। ঋতব্রতর এই উত্থানের পেছনে দলীয় অসন্তোষের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি ফিরহাদ হাকিমের মতো হেভিওয়েট নেতার সঙ্গে ঋতব্রতর বৈঠক এবং দলত্যাগের গুঞ্জন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। এমনকি ঘাসফুল প্রতীক বা তৃণমূলের লোগো কার দখলে থাকবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে এই আইনি লড়াইয়ের এখানেই ইতি ঘটছে না। আগামী ১৬ জুন কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে উভয় পক্ষের বিস্তারিত যুক্তিতর্কের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *