কলকাতার রাস্তায় বেআইনি গাড়ি পার্কিং করলেই ৫০০ টাকা জরিমানা, কড়া পদক্ষেপ পুরমন্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতার রাস্তায় যত্রতত্র বেআইনি পার্কিং রুখতে এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে নতুন সরকার। পার্কিং জোনের বাইরে কিংবা নো-পার্কিং এলাকায় গাড়ি দাঁড় করালেই চালকদের সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত মোটা জরিমানা গুনতে হতে পারে। মূলত শহরের তীব্র যানজট নিয়ন্ত্রণ করা এবং পথচারীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবারই শহরের প্রায় ২৭টি ট্র্যাফিক গার্ড এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়েছে লালবাজার পুলিশ, যা প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানানো হয়েছে, কলকাতা পুরসভার অনুমোদিত নির্দিষ্ট জোন ছাড়া অন্য কোথাও গাড়ি পার্কিং করা যাবে না। ভুয়ো পার্কিং চক্রের দাপট রুখতে এবং এই ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে একাধিক নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এখন থেকে অনুমোদিত পার্কিং এলাকায় শুধুমাত্র ওয়ান লাইন পার্কিং করা যাবে। এছাড়া নির্ধারিত জায়গার পরিমাপ এবং নির্দিষ্ট পার্কিং ফি স্পষ্টভাবে ডিসপ্লে বোর্ডে লিখে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। পাশাপাশি, পার্কিং কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম পরা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ ভুয়ো স্লিপের প্রতারণা থেকে রক্ষা পান।
অভিযানের কারণ ও কঠোর অবস্থান
শহরের বুকে দীর্ঘদিন ধরেই সিন্ডিকেট বা অবৈধ চক্রের মাধ্যমে যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করিয়ে বেআইনিভাবে টাকা তোলার অভিযোগ উঠছিল। এই চক্রের সংগৃহীত টাকার কোনো অংশই সরকারি রাজস্বে জমা পড়ে না, উল্টো সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হন। নতুন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, রাস্তার দু’পাশে অবৈধ পার্কিং পুরোপুরি বন্ধ করা হবে এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে গাড়ি না রাখলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সুর শোনা গিয়েছে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের গলাতেও। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করিয়ে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলার এই বেআইনি প্রথা এবার বন্ধ হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
যানবাহন ও জনজীবনে সম্ভাব্য প্রভাব
এই কড়া নিয়ম কার্যকর হলে কলকাতার ট্র্যাফিক ব্যবস্থায় বড়সড় ইতিবাচক বদল আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। নো-পার্কিং জোনে ৫০০ টাকা জরিমানার ভয় চালকদের আইন মানতে বাধ্য করবে, যার ফলে রাস্তার ধারণক্ষমতা বাড়বে এবং যানজট অনেকটাই কমবে। তবে অফিসপাড়া বা ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত অনুমোদিত পার্কিং স্পেস না থাকলে চালকদের একাংশ সমস্যায় পড়তে পারেন। সামগ্রিকভাবে, পার্কিং ফি-র স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার প্রবণতা কমবে এবং সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে।
