কাকলি আউট, লোকসভার চিফ হুইপ হলেন কল্যাণ! কেন পুরনো সেনাপতিতেই ভরসা রাখলেন মমতা? – এবেলা

কাকলি আউট, লোকসভার চিফ হুইপ হলেন কল্যাণ! কেন পুরনো সেনাপতিতেই ভরসা রাখলেন মমতা? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় রাজনীতিতে বড়সড় রদবদল ঘটালেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার কালীঘাটে দলীয় সাংসদদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে লোকসভার চিফ হুইপের পদ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতিতে দলের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

লড়াকু মেজাজ ও আনুগত্যের স্বীকৃতি

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফেরানো নিছক কোনো প্রশাসনিক রদবদল নয়, বরং এটি একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা। ২০২৫ সালে মহুয়া মৈত্রর সঙ্গে বিবাদের জেরে কল্যাণকে এই পদ ছাড়তে হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কল্যাণের আক্রমণাত্মক মেজাজ এবং আইনি লড়াইয়ের দক্ষতাকেই অগ্রাধিকার দিতে চাইছে তৃণমূল নেতৃত্ব। আদালতের আঙিনা থেকে রাজপথ—সর্বত্রই দলের হয়ে সরব হওয়া কল্যাণের ওপর ভরসা রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিলেন যে, এই মুহূর্তে দলে লড়াকু মানসিকতা ও আনুগত্যই সবার আগে।

রদবদলের নেপথ্যে অভ্যন্তরীণ সমীকরণ

এই পরিবর্তনের নেপথ্যে দলের অভ্যন্তরীণ কিছু সমীকরণও কাজ করেছে বলে জানা গেছে। দলীয় সূত্রে খবর, বিদায়ী চিফ হুইপ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ছেলের কিছু সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়ে দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, যা নেতৃত্বের অস্বস্তি বাড়ায়। অন্যদিকে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কল্যাণের সক্রিয় ভূমিকা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সুনজরে ছিল। যদিও লোকসভায় দলের নেতা হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেপুটি লিডার পদে শতাব্দী রায় অপরিবর্তিত রয়েছেন।

দলের মনোবল ফেরানোর কৌশল

এদিনের বৈঠকে উপস্থিত সাংসদদের উদ্দেশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনের লড়াই নিয়ে সরব হন। তিনি অভিযোগ করেন, গত নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় শক্তিকে ব্যবহার করে তৃণমূলকে রোখার চেষ্টা করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবং জাতীয় স্তরে দলের অবস্থান মজবুত করতেই কল্যাণের মতো অভিজ্ঞ ও কৌশলী সাংসদকে সংসদীয় পরিচালনার সামনের সারিতে আনা হয়েছে। মূলত দলকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়া এবং ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই তৃণমূল সুপ্রিমো এই রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *