কার্যালয়ে বিছানা ও কনডমের স্তূপ, পাণ্ডবেশ্বরে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের অফিস ঘিরে তুলকালাম! – এবেলা

কার্যালয়ে বিছানা ও কনডমের স্তূপ, পাণ্ডবেশ্বরে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের অফিস ঘিরে তুলকালাম! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজের পর এবার পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বর। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ব্যক্তিগত কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রীর পাশাপাশি বিলাসবহুল শয্যা এবং কনডম উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। বিধানসভা নির্বাচনে শাসকদলের পরাজয়ের পর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আছড়ে পড়েছে রাস্তায়।

জনরোষ ও উদ্ধার পর্ব

নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর থেকেই প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি সামগ্রী আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠছিল। স্থানীয়দের দাবি ছিল, আমজনতার প্রাপ্য জিনিসপত্র বিধায়ক তাঁর কার্যালয়ে অবৈধভাবে মজুত করে রেখেছেন। শুক্রবার এই ক্ষোভ গণবিক্ষোভের রূপ নেয়। শতাধিক ক্ষুব্ধ মানুষ প্রাক্তন বিধায়কের বাড়ি ও কার্যালয় ঘেরাও করে ভেতরে ঢুকে পড়েন। সেখানে থরে থরে সাজানো সরকারি ত্রিপলসহ একাধিক ত্রাণসামগ্রী দেখতে পান তাঁরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয়।

কার্যালয়ের ভেতরে মিনি বেডরুম

বিক্ষোভের মুখে কার্যালয়ের ভেতরে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে মূল চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা যায়, দলীয় কার্যালয়ের ভেতরেই তৈরি করা হয়েছে দুটি সুসজ্জিত গোপন কক্ষ। সেখানে তোষক, বালিশ ও বিছানার পাশাপাশি একটি ঘরের ড্রয়ার থেকে বিপুল পরিমাণ কনডমের প্যাকেট উদ্ধার হয়। সম্প্রতি কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজেও একই কায়দায় তৃণমূল ছাত্রনেতার এসি, ফ্রিজ ও বাথরুমযুক্ত বিলাসবহুল ‘বেডরুম’ এবং কনডম উদ্ধার হয়েছিল। পাণ্ডবেশ্বরের এই ঘটনাকে তারই পুনরাবৃত্তি বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতার অভাবই দলীয় কার্যালয়কে ব্যক্তিগত প্রমোদশালা ও কালোবাজারির কেন্দ্রে পরিণত করেছিল। সাধারণ মানুষ ভয়ের কারণে এতদিন মুখ না খুললেও, নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর বিধায়কের রাজনৈতিক প্রতিপত্তি কমতেই মানুষের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এই ঘটনা একদিকে যেমন এলাকায় শাসকদলের ভাবমূর্তি সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ করেছে, অন্যদিকে তেমনই আসন্ন দিনগুলোতে স্থানীয় স্তরে বিরোধীদের রাজনৈতিক জমি আরও শক্ত করতে বড় অস্ত্র হিসেবে কাজ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *