কালীঘাটে দিদির সামনেই কুণাল-অভিষেক তুলকালাম, ভাঙনের মুখে চরম সঙ্কটে তৃণমূল! – এবেলা

কালীঘাটে দিদির সামনেই কুণাল-অভিষেক তুলকালাম, ভাঙনের মুখে চরম সঙ্কটে তৃণমূল! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বর্তমানে চরম ডামাডোল পরিস্থিতি। দলের একের পর এক শীর্ষ নেতার দলত্যাগের আবহে খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ও রোমহর্ষক ঘটনা। দলের বর্তমান সঙ্কট নিয়ে আয়োজিত একটি জরুরি বৈঠকে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শীর্ষ নেতা কুণাল ঘোষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে খোদ দলনেত্রীকে হস্তক্ষেপ করে দু’পক্ষকে শান্ত করতে হয়।

তৃণমূলে ভাঙন ও কালীঘাটে জরুরি বৈঠক

সম্প্রতি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, মালা রায়, সায়নী ঘোষ এবং মানস ভুঁইয়ার মতো হেভিওয়েট নেতারা কার্যত দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই বিপর্যয়ের মোকাবিলা করতেই কালীঘাটে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সূত্রের খবর, বৈঠকের শুরুতেই দলের এই দুর্দিনে মাটি কামড়ে পড়ে থাকা কর্মীদের পদ দিয়ে উৎসাহিত করার প্রস্তাব দেন কুণাল ঘোষ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি পরে দেখার কথা বললে ক্ষুব্ধ কুণাল তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ব্যাপারটি যেন লেবু কচলে আর তেতো করা না হয়। দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে এই মন্তব্যেই।

সুমিত রায় বিতর্ক ও মমতার হস্তক্ষেপ

বৈঠক শেষে এই দ্বন্দ্ব আরও চরম আকার ধারণ করে। অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি, তোলাবাজি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে কুণাল ঘোষের কড়া মন্তব্যের জেরে ক্ষুব্ধ ছিলেন অভিষেক। তিনি কুণালকে সরাসরি জানান যে, সুমিতের বিরুদ্ধে বলা মানে আদতে তাঁর বিরুদ্ধেই বলা। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে আঙুল উঁচিয়ে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত ছুটে আসেন এবং দুজনের মাথায় হাত রেখে তাঁদের শান্ত করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, দলের এই কঠিন সময়ে মাথা গরম না করে ঠান্ডা মাথায় কাজ করা প্রয়োজন।

দলের শীর্ষ স্তরের এই প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব এবং নেতাদের লাগাতার দলত্যাগ তৃণমূলের অন্দরের চরম বিশৃঙ্খলাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে যেমন ঘনিষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে, অন্যদিকে শীর্ষ নেতৃত্বের এই প্রকাশ্য অন্তর্দ্বন্দ্ব দলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল সম্পূর্ণ ভেঙে দিতে পারে এবং আগামী দিনে দলের সাংগঠনিক ভিত্তিকে আরও দুর্বল করে তুলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *