কালো টাকা থেকে আধুনিক ডিজাইন: বদলে যাওয়া ১০ টাকার নোটের অজানা গল্প – এবেলা
August 20, 2026

এবেলা ডেস্কঃ
দৈনন্দিন কেনাকাটা থেকে শুরু করে বাস-ট্রেনের ভাড়া—আমাদের পকেটের ১০ টাকার নোটটি চিরপরিচিত। কিন্তু আজ আমরা যে নোটটি ব্যবহার করছি, তা সবসময় দেখতে এমন ছিল না। স্বাধীনতার পর থেকে জালিয়াতি রুখতে এবং আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া দিতে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) প্রায় ৮ থেকে ১০ বার এই নোটের নকশায় পরিবর্তন এনেছে।
১০ টাকার নোটের বিবর্তন সফর
- লায়ন ক্যাপিটাল সিরিজ (১৯৫৪-১৯৬৭): ১৯৩৮ সালে প্রথম ১০ টাকার নোট চালু হলেও ১৯৪৬ সালে তা সাময়িক বন্ধ হয়। স্বাধীন ভারতে ১৯৫৪ সালে পুনরায় আসা নোটে স্থান পায় অশোক স্তম্ভ এবং পেছনের পিঠে ছিল দুটি ময়ূর।
- মহাত্মা গান্ধী সিরিজ (১৯৬৯-১৯৯৬): ১৯৬৯ সালে গান্ধীর জন্মশতবার্ষিকীতে তাঁর ছবি নোটে যুক্ত হয়। পরবর্তীতে ১৯৭০, ১৯৭৫ ও ১৯৮৮ সালেও ডিজাইনে সূক্ষ্ম পরিবর্তন আসে।
- মহাত্মা গান্ধী নিউ সিরিজ (১৯৯৬-২০১৮): ১৯৯৬ সালে জালিয়াতি রোধে নতুন সিকিউরিটি ফিচার সহ কোনার্কের সূর্য মন্দির সংবলিত নোট আসে। ২০১১ সালে এতে যুক্ত হয় টাকার নতুন প্রতীক (₹)।
- চকলেট ব্রাউন সিরিজ (২০১৮-বর্তমান): ২০১৮ সালে ১২৩ মিমি × ৬৩ মিমি আকারের গাঢ় চকলেট ব্রাউন রঙের আধুনিক ১০ টাকার নোট বাজারে আসে, যার পেছনে ঐতিহ্যবাহী কোনার্কের সূর্য মন্দির ও চাকা রয়েছে।
কেন এই পরিবর্তন?
জাল নোটের কারবার রুখতে ওয়াটারমার্ক, সিকিউরিটি থ্রেড ও ডিজিটাল ফিচারের সুরক্ষাবর্ম যুক্ত করাই এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য। বর্তমানে প্রচলিত নোটে একদিকে গান্ধীজির ছবি ও আরবিআই গভর্নরের স্বাক্ষর এবং অন্যদিকে ১৭টি আঞ্চলিক ভাষায় নোটের মূল্যমানসহ দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ছোঁয়া রয়েছে।
