কিডনি ক্যানসারের এই ৭ লক্ষণ অবহেলা করলে বড় বিপদ হতে পারে

কিডনি মানবদেহের একটি অপরিহার্য অঙ্গ যা রক্ত পরিশোধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে কিডনিতে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধির ফলে টিউমার সৃষ্টি হতে পারে, যা পরবর্তীতে ক্যানসারে রূপ নেয়। এই মরণব্যাধি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হলেও কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
কিডনি ক্যানসার কেন হয়
শরীরের কোষগুলোর স্বাভাবিক বৃদ্ধি যখন জেনেটিক কারণে বিঘ্নিত হয়, তখন অনিয়ন্ত্রিত কোষ বৃদ্ধির ফলে কিডনিতে টিউমার তৈরি হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘মेटाস্ট্যাসিস’ বলা হয়, যা পর্যায়ক্রমে দেহের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ক্যানসার ঝুঁকির প্রধান কারণগুলো
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু অভ্যাস বা শারীরিক অবস্থা কিডনি ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়:
- ধূমপান: তামাক সেবনকারীদের মধ্যে এই ক্যানসারের ঝুঁকি সাধারণ মানুষের চেয়ে দ্বিগুণ।
- স্থূলতা: অতিরিক্ত মেদ শরীরের কোষের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।
- উচ্চ রক্তচাপ: দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপ সরাসরি কিডনির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে।
- বংশগত প্রভাব: পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের কিডনির সমস্যা থাকলে ঝুঁকি কিছুটা বৃদ্ধি পায়।
যেসব লক্ষণ অবহেলা করা বিপজ্জনক
কিডনি ক্যানসারের সবচেয়ে আশঙ্কাজনক দিক হলো শুরুতে এর কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। তবে রোগ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে নিচের পরিবর্তনগুলো দেখা দিতে পারে:
১. প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া: এটি অন্যতম প্রধান লক্ষণ। প্রস্রাবের রং গোলাপী বা লালচে হতে পারে।
২. পিঠের নিচের অংশে ব্যথা: কোমর বা পিঠের নিচে অবিরাম ব্যথা হওয়া যা বিশ্রাম বা সাধারণ ওষুধে সারে না।
৩. পিণ্ড বা ফোলা ভাব: কিডনির আশেপাশে বা পিঠের নিচে কোনো পিণ্ড বা শক্ত ফোলা অংশ অনুভূত হওয়া।
৪. অতিরিক্ত ক্লান্তি: পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও সারাক্ষণ শরীর অবসাদগ্রস্ত থাকা এবং কাজে অনীহা আসা।
৫. ক্ষুধা মন্দা: কোনো বিশেষ ডায়েট বা কারণ ছাড়াই হঠাৎ খাওয়ার ইচ্ছা কমে যাওয়া।
৬. ওজন হ্রাস: শারীরিক পরিশ্রম বা ডায়েট পরিবর্তন ছাড়াই অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমে যাওয়া।
৭. হিমোগ্লোবিনের অভাব: রক্তে লোহিত কণিকা কমে যাওয়ার ফলে শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি এবং শীত শীত অনুভূত হওয়া।
একঝলকে
- অনিয়ন্ত্রিত কোষ বৃদ্ধি থেকেই কিডনি ক্যানসারের সূত্রপাত।
- ধূমপান ও উচ্চ রক্তচাপ এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
- প্রস্রাবে রক্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী পিঠ ব্যথা এর প্রাথমিক সতর্কবার্তা।
- কোনো কারণ ছাড়া ওজন কমে যাওয়া কিডনি সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
- সময়মতো শনাক্ত না হলে ক্যানসার শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
