কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ধ্বংস ৩০ মিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক ড্রোন – এবেলা

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ধ্বংস ৩০ মিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক ড্রোন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘর্ষবিরতি প্রক্রিয়ার মাঝেই কুয়েতের মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ভয়াবহ ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান। গত ২৪ ঘণ্টায় কুয়েতের ‘আলি আল সালেম’ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। এই ঘটনার ফলে দীর্ঘদিনের আলোচনা প্রক্রিয়া কার্যত ভেস্তে যাওয়ার মুখে দাঁড়িয়েছে এবং গোটা অঞ্চলে নতুন করে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আমেরিকার পক্ষ থেকেও এই হামলার খবর স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে।

হামলার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি

ইরানের ইসলামিক রিভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) জানিয়েছে, সম্প্রতি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর আব্বাস এলাকায় আমেরিকার চালানো হামলার জবাবেই এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইরান এই অভিযানে তাদের শক্তিশালী ‘ফতেহ-১১০’ ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মাঝ আকাশেই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও, এর ভারী ধ্বংসাবশেষ সরাসরি মার্কিন সেনাঘাঁটির ওপর আছড়ে পড়ে। এর ফলে সেখানে কর্মরত বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন এবং আমেরিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যয়বহুল সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে মার্কিন বিমান বাহিনীর নজরদারি ও আক্রমণ ব্যবস্থার ওপর। এই হামলায় মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অস্ত্র, ৩০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন’ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আরও একটি ড্রোন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অত্যন্ত গোপনে নজরদারি চালানো এবং নিখুঁত নিশানা করার জন্য ব্যবহৃত এই ড্রোনের ধ্বংস হওয়াকে মার্কিন সেনার বড় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভবিষ্যত প্রভাব ও পারমাণবিক চুক্তিতে অনিশ্চয়তা

এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে পরমাণু চুক্তি নবায়ন এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে গত কয়েকদিন ধরে যে আশার আলো দেখা যাচ্ছিল, তা এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা প্রক্রিয়াকে দীর্ঘদিনের জন্য স্তব্ধ করে দিতে পারে এবং এর জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়া আসাম্ভব নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *