কেরলে সতীশনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিতর্ক, বন্দে মাতরম বিতর্ক ফের উস্কে দিল দক্ষিণের রাজনীতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কেরলের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সোমবার শপথ নিলেন কংগ্রেস নেতা ভিডি সতীশন। তবে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নতুন করে মাথাচাড়া দিল জাতীয় স্তোত্র বন্দে মাতরম বিতর্ক। অনুষ্ঠান শুরুর আগে থেকেই এই স্তোত্র পরিবেশন নিয়ে রাজভবন ও নতুন সরকারের মধ্যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল, যা শপথের মঞ্চে প্রকাশ্য রূপ নেয়।
শপথ মঞ্চে ভিন্ন ছবি
সরকারি নির্দেশিকা মেনে শপথ অনুষ্ঠানের শুরুতে বন্দে মাতরমের পুরো অংশটি বাজানো হয়। তবে এই সময় এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আর্লেকর এবং বিজেপি রাজ্য সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর ছাড়া মঞ্চের আর কাউকেই জাতীয় স্তোত্রের সঙ্গে গলা মেলাতে দেখা যায়নি। নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ভিডি সতীশন, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন সহ উপস্থিত বাম ও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব এই সময় সম্পূর্ণ নীরব ছিলেন। অথচ এর পরেই যখন জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়, তখন কংগ্রেস ও বাম নেতারা একযোগে গলা মেলান।
বিতর্কের সূত্রপাত ও রাজনৈতিক অবস্থান
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বন্দে মাতরমের দেড়শ বছর পূর্তি উপলক্ষে সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠানে এই স্তোত্রটি পুরোটা পরিবেশনের নির্দেশ জারি করেছে। তবে অন্ধ্রপ্রদেশ ছাড়া দক্ষিণ ভারতের অন্য কোনো রাজ্য এই নির্দেশ পুরোপুরি মেনে নেয়নি। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আগেই লোকসভায় জানানো হয়েছিল যে, জওহরলাল নেহেরুর আমল থেকেই স্পর্শকাতরতার কারণে বন্দে মাতরমের একটি নির্দিষ্ট অংশ গাওয়ার রীতি ছিল, পুরোটা নয়। কেরলের নতুন মুখ্যমন্ত্রী সতীশনও শপথের আগে রাজ্যপালকে পুরো স্তোত্র না বাজানোর অনুরোধ করেছিলেন, যদিও রাজ্যপাল তা গ্রাহ্য করেননি। এর আগে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের শপথেও পুরো বন্দে মাতরম বাজানো নিয়ে বাম দলগুলি আপত্তি তুলেছিল।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব
কেরলের এই ঘটনা কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের টানাপড়েনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় কেন্দ্রের সুরের সঙ্গে মিলিয়ে চললেও, কেরলে কংগ্রেস ও বামেদের এই যৌথ নীরবতা প্রমাণ করে যে তারা কেন্দ্রের সাংস্কৃতিক ও জাতীয়তাবাদী নীতিমালার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান শক্ত রাখছে। আগামী দিনে দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে এই জাতীয় স্তোত্র বিতর্ক কেন্দ্র বনাম রাজ্যের স্বাধিকারের লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
