১ জুন থেকে বন্ধ ইমাম, মোয়াজ্জেম ও পুরোহিত ভাতা, বড়সড় প্রশাসনিক সংস্কারে নতুন সরকার – এবেলা

১ জুন থেকে বন্ধ ইমাম, মোয়াজ্জেম ও পুরোহিত ভাতা, বড়সড় প্রশাসনিক সংস্কারে নতুন সরকার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর প্রথম দফাতেই বড়সড় প্রশাসনিক ও আর্থিক সংস্কারের পথে হাঁটল নতুন সরকার। সোমবার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ধর্মীয় শ্রেণিভিত্তিক সমস্ত সরকারি প্রকল্প বন্ধ করার এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নবান্নে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, চলতি মে মাস পর্যন্ত এই সমস্ত প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সুবিধা পাওয়া গেলেও, আগামী ১ জুন থেকে তা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাবে।

আর্থিক সংস্কার ও তোষণমুক্ত রাজনীতির বার্তা

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে চালু হওয়া ইমাম, মোয়াজ্জেম এবং পুরোহিতদের মাসিক ভাতার ওপর। তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপির নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান স্লোগানই ছিল ‘ভাতা নয়, ভাত চাই’। ক্ষমতায় আসার মাত্র ৯ দিনের মাথায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে প্রথম বড় পদক্ষেপটি করল। বিগত সরকারের আমলে ধর্মের ভিত্তিতে এই ধরণের আর্থিক অনুদানকে ‘তোষণের রাজনীতি’ এবং ‘রেউরি সংস্কৃতি’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছিল বর্তমান শাসকদল। এবার ক্ষমতায় এসেই সরকারি কোষাগারের ওপর চাপ কমানো এবং ধর্মের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া বৈষম্য দূর করতে এই কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।

প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ

এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের অধীনে থাকা ধর্মীয় সহায়তামূলক প্রকল্পগুলি পুরোপুরি বন্ধ হতে চলেছে। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, এই বিষয়ে খুব শীঘ্রই নবান্নের তরফ থেকে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। তবে ইমাম, মোয়াজ্জেম ও পুরোহিত ভাতা বন্ধের পথে হাঁটলেও, ক্লাবগুলির পুজোর অনুদান নিয়ে সরকার এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে রাজ্যের ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক পরিকাঠামো কতটা চাঙ্গা হয় এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কী প্রভাব পড়ে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *