কলকাতায় পাথর ছোড়ার দিন শেষ, সমাজবিরোধীদের চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী – এবেলা

কলকাতায় পাথর ছোড়ার দিন শেষ, সমাজবিরোধীদের চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পার্ক সার্কাসে বিক্ষোভের নামে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার কলকাতা পুলিশের ডিসি অফিসে দাঁড়িয়ে কড়া ভাষায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর সরকারের জমানায় পুলিশের ওপর এটাই প্রথম এবং শেষ আক্রমণ। আন্দোলন বা বিক্ষোভের নামে পুলিশের ওপর হামলা আর কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ভবিষ্যতে কোনও পুলিশকর্মীর গায়ে আঘাত লাগলে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আইন অনুযায়ী চরম পদক্ষেপ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে, রবিবারের এই বিক্ষোভকে ‘পরিকল্পিত’ বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রবিবার দুপুরে রাজ্য সরকারের বুলডোজার নীতির প্রতিবাদে পার্ক সার্কাস চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। কয়েকশো মানুষ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে পুলিশ তাঁদের রাস্তা থেকে সরানোর চেষ্টা করে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ করে। অন্য দিকে, পুলিশের দাবি— তাঁদের লক্ষ্য করে আচমকা ইটবৃষ্টি শুরু হয় এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষে বিশাল পুলিশ বাহিনী নামাতে হয়েছিল। এই অশান্তির জেরে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী ও সিআরপিএফ জওয়ান আহত হন।

আইনশৃঙ্খলায় কঠোর অবস্থান ও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

এ দিনের অশান্তিতে আহত পুলিশকর্মী ও জওয়ানদের খোঁজ নিতে সোমবার পার্ক সার্কাসের ডিসি অফিসে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি রবিবারের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বলেন, “কাশ্মীরে, শ্রীনগরে পুলিশকে পাথর ছোড়া বন্ধ হয়েছে, আমার মনে হয় পশ্চিমবঙ্গ তথা কলকাতাতেও এ বার তা বন্ধ হবে।” পূর্বতন সরকারের তুলনা টেনে কড়া সুরে তিনি জানান যে, পুলিশকে হাত-পা বেঁধে রেখে দেওয়ার দিন শেষ। এই ধরনের অশান্তি ও গুন্ডামিতে সরকারের নীতি ‘জ়িরো টলারেন্স’। কোনও দেশবিরোধী বা সমাজবিরোধী কার্যকলাপ চালাতে দেওয়া হবে না। শাসক হোক বা বিরোধী— দলমত, ধর্ম বা সম্প্রদায় না দেখে পুলিশকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) অনুযায়ী ভয়মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য দূরগামী প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতের মূল কারণ সরকারি উচ্ছেদ বা বুলডোজার নীতির বিরুদ্ধে জনগণের একাংশের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং তা থেকে সৃষ্ট আইন অমান্যের মানসিকতা। তবে এই ঘটনার পর সরকারের কড়া অবস্থান রাজ্যের আইনশৃঙ্খলায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে ‘ফ্রি-হ্যান্ড’ দেওয়ায় এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে ‘ক্লোজ মনিটরিং’-এর ঘোষণা করায় ভবিষ্যতে যে কোনও ধরনের উগ্র আন্দোলন বা হিংসাত্মক বিক্ষোভের পথ অনেকটাই রুদ্ধ হবে। পুলিশের মনোবল বাড়লেও, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে আইন প্রয়োগের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা প্রশাসনের জন্য আগামী দিনে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। সবশেষে অভিযুক্তদের উদ্দেশে চূড়ান্ত বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এর পর এমন ঘটনা ঘটলে, আমার থেকে খারাপ কোনও পুলিশমন্ত্রী হবে না।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *