কোটি টাকার প্রতারণা! অভিষেকের আপ্তসহায়কের খোঁজে কালীঘাট থেকে শ্রীরামপুরে পুলিশের তল্লাশি – এবেলা

কোটি টাকার প্রতারণা! অভিষেকের আপ্তসহায়কের খোঁজে কালীঘাট থেকে শ্রীরামপুরে পুলিশের তল্লাশি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজে মরিয়া হয়ে উঠেছে পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত কলকাতার কালীঘাটে অভিষেকের বাড়ি, হুগলিতে সুমিতের নিজের বাড়ি এবং শ্রীরামপুরে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে জোরদার তল্লাশি চালিয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থানার পুলিশ। তবে টানা অভিযান চালিয়েও এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও হদিস মেলেনি।

কোটি টাকার প্রতারণা ও একাধিক অভিযোগ

এই নজিরবিহীন তল্লাশি অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শালবনি থানায় দায়ের হওয়া একটি আর্থিক প্রতারণার মামলা। তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা অভিযোগ দায়ের করেছেন যে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শালবনি কেন্দ্র থেকে পুনরায় দলীয় টিকিট পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সুমিত রায় তাঁর কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা নিয়েছিলেন। টিকিট এবং টাকা কোনোটিই না মেলায় অবশেষে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। এছাড়া সুমিতের বিরুদ্ধে ভোটের প্রচারে কুর্মি সমাজকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করা এবং জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।

কালীঘাটে তালা ভাঙল পুলিশ, ক্ষুব্ধ পরিবার

সুমিতের মোবাইলের সর্বশেষ টাওয়ার লোকেশন মিলেছিল কালীঘাটে অভিষেকের বাড়িতে। সেই সূত্র ধরেই শুক্রবার রাত ৩টে নাগাদ শালবনি থানার পুলিশ সেখানে পৌঁছায়। তদন্তে অসহযোগিতার কারণে প্রায় তিন ঘণ্টা বাইরে অপেক্ষা করার পর শেষমেশ দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে বাধ্য হয় পুলিশ। শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সেখানে তল্লাশি চলে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অভিযানের খবর পেয়ে অন্য কোনও পথ দিয়ে আগেই সেখান থেকে পালিয়েছেন সুমিত।

কালীঘাটের পর পুলিশের দলটি সুমিতের শ্বশুরবাড়ি শ্রীরামপুরের বিবেকানন্দ সরণিতে যায়। স্থানীয় সূত্রে তাঁর নিয়মিত যাতায়াতের খবর থাকলেও, সুমিতের শাশুড়ি জানান গত দু-তিন দিন তিনি সেখানে যাননি। পুলিশের এই লাগাতার তল্লাশিতে ক্ষুব্ধ শাশুড়ির দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁদের বিরক্ত করা হচ্ছে এবং পরিবারের গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হচ্ছে।

শাসকদলের শীর্ষ নেতার আপ্তসহায়কের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ এবং তার প্রেক্ষিতে পুলিশের এই অতি-সক্রিয়তা রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলীয় টিকিট বন্টনকে কেন্দ্র করে এই আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ শাসকদলের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি আগামীতে রাজনৈতিক মহলে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *