ক্রীড়া প্রশাসনে বড় রদবদল, মমতার দুই ভাইকে ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়া প্রশাসনের অন্দরমহলে এখন বড় পরিবর্তনের হাওয়া। দীর্ঘদিনের বিতর্কিত বিভিন্ন ইস্যু এবং নিয়ম ভাঙার অভিযোগের জেরে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যার কেন্দ্রে রয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুই ভাই বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় ও কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ক্রীড়া সংস্থায় ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতির চাপ
ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন বা আইওএ-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, দেশের ক্রীড়া সংগঠনগুলোতে ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নিয়ম মেনে চলার জন্য বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে (বিওএ) কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অথচ দেখা যাচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও বক্সিং, টেবিল টেনিস ও কবাডিসহ একাধিক ক্রীড়া সংস্থার শীর্ষ পদ আঁকড়ে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে আইওএ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়ম মেনে বাড়তি পদগুলো থেকে ইস্তফা না দেওয়া হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা হিসেবে সাসপেনশন বা বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ক্রীড়া মহলের একাংশের মতে, এই নির্দেশিকার বাস্তবায়ন রাজ্যের ক্রীড়া প্রশাসনে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।
দখলমুক্ত হরিশ পার্ক ব্যায়াম সমিতি
অন্য এক ঘটনায়, দীর্ঘদিনের சர்ச்சার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বস্তি ফিরেছে হরিশ পার্ক ব্যায়াম সমিতিতে। এতদিন এই ক্লাবের প্রশাসনিক দখল কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে থাকায় বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা এবং সদস্যদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের মুখে অবশেষে সেই নিয়ন্ত্রণ মুক্ত হয়েছে। এই ঘটনাকে ক্রীড়া প্রেমী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। প্রশাসনিক এই পরিবর্তন ক্লাবের ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ড এবং সদস্যদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই দুই ঘটনা একত্রে রাজ্যের ক্রীড়া সংগঠনগুলোর পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও নিয়মানুবর্তিতা আনার একটি বড় বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সরকারি প্রভাব বলয় থেকে ক্রীড়া সংস্থাকে মুক্ত করার যে দাবি দীর্ঘকাল ধরে চলছিল, এই আইনি ও প্রশাসনিক কড়াকড়ি তার একটি বড় প্রভাব হিসেবে বিবেচিত হবে।
