ক্ষুধার্ত শিশুর দুধের আবদার, চার বছরের ছেলেকে আছাড় মেরে খুন করল পাষণ্ড বাবা! – এবেলা

ক্ষুধার্ত শিশুর দুধের আবদার, চার বছরের ছেলেকে আছাড় মেরে খুন করল পাষণ্ড বাবা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মুম্বইয়ের পওয়াই এলাকার গৌতমনগর সংলগ্ন বস্তিতে এক মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠার মতো ঘটনা ঘটেছে। দুধ খেতে চেয়ে কান্নাকাটি করায় নিজের চার বছরের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানকে আছাড় মেরে খুন করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। মৃত শিশুটির নাম যশ সিং। এই ঘটনায় পওয়াই থানার পুলিশ অভিযুক্ত বাবা রাজেশ সিংকে (২৬) গ্রেফতার করেছে। পারিবারিক অশান্তি ও মদ্যপানের আসক্তি কীভাবে একটি ফুটফুটে শিশুর প্রাণ কেড়ে নিল, এই ঘটনা তারই এক নৃশংস উদাহরণ।

মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ও পারিবারিক অস্থিরতা

পুলিশ সূত্রের খবর, অভিযুক্ত রাজেশ সিংয়ের মদ্যপানের অভ্যাসের কারণে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছিল। ঝগড়ার জেরে দিনকয়েক আগে তাঁর স্ত্রী চার বছরের সন্তানকে রেখে বাপের বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকেই শিশুটি বাবার কাছে ছিল। গত বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক ৫টা নাগাদ ক্ষুধার্ত শিশুটি দুধের জন্য কান্নাকাটি শুরু করে। সে মূলত দুধের উপরই নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু মদ্যপ ও ক্ষিপ্ত বাবা শান্ত করার পরিবর্তে রাগের মাথায় শিশুটিকে নির্মমভাবে মারধর করে এবং ঘরের দরজার সঙ্গে সজোরে আছাড় মারে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, মাথায় গুরুতর আঘাত এবং খুলি ফেটে যাওয়ার কারণে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়।

তদন্ত ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

নৃশংস এই অপরাধ ঘটানোর পর অভিযুক্ত রাজেশ নিজের বোনের বাড়িতে গিয়ে মারধরের কথা স্বীকার করে। বোন দ্রুত পওয়াইয়ের ওই বাড়িতে পৌঁছে ভাইয়ের পৈশাচিক কীর্তি দেখতে পান এবং অবিলম্বে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে অভিযুক্ত রাজেশ সিংকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করলে বিচারক তাকে আগামী ১ জুন পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। অপরাধবিজ্ঞানী ও সমাজকর্মীদের মতে, অতিরিক্ত মদ্যপান ও পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা মানুষের মানসিক নিয়ন্ত্রণ কতটা পঙ্গু করে দিতে পারে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সুরক্ষায় পারিবারিক সচেতনতা ও সামাজিক নজরদারির অভাবও এই ধরনের ট্র্যাজেডির অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে আসছে। পওয়াই থানার পুলিশ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *