খামেনেই সপরিবারে খতম আর অস্তিত্ব নেই আইআরজিসির! আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিধ্বংসী হামলায় ধ্বংস ইরান – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ঘনিয়ে এল চূড়ান্ত মুহূর্ত। ইরান ও ইজরায়েলের দীর্ঘদিনের সংঘাত এবার কার্যত একতরফা ধ্বংসলীলায় রূপ নিয়েছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ এবং নজিরবিহীন বিমান হামলায় ইরানি ক্ষমতার মূল স্তম্ভ ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস’ বা আইআরজিসি (IRGC)-এর সদর দপ্তর এখন কেবলই ধ্বংসস্তূপ। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইসহ তার পুরো পরিবার নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা গোটা বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে।
৪৭ বছরের রক্তক্ষয়ী হিসেব মেলাল আমেরিকা
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ এই অভিযানের একটি রুদ্ধশ্বাস ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, গত ৪৭ বছরে এক হাজারেরও বেশি মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিল এই আইআরজিসি। মার্কিন বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এই সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর ইরানি সেনার এই শক্তিশালী ইউনিটের আর কোনো সদর দপ্তর অবশিষ্ট নেই। মার্কিন কমান্ড স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, “সাপের মাথা কেটে ফেলা হয়েছে।” তারা বিশ্বকে এই বার্তাই দিতে চেয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদের মদতদাতাদের পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে।
ইজরায়েলের মরণকামড় ও কমান্ড ধ্বংস
আমেরিকার পাশাপাশি ইজরায়েলি বায়ুসেনাও ইরানের সামরিক কাঠামোর ওপর চূড়ান্ত আঘাত হেনেছে। ইজরায়েলের দাবি, তারা আইআরজিসির গোয়েন্দা সদর দপ্তর, বিমান বাহিনীর কমান্ড সেন্টার এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দপ্তরের মূল ঘাঁটিগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এই হামলায় ইরানের সামরিক বাহিনীর ‘কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল’ ক্ষমতা পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মতে, এই অপারেশনে ইরানের শীর্ষস্থানীয় প্রায় সমস্ত সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন।
নিভে গেল খামেনেইর বংশপ্রদীপ
এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় এবং চাঞ্চল্যকর খবর হলো ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যু। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধুমাত্র খামেনেই নন, এই ভয়াবহ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তার কন্যা, জামাতা, নাতনি এবং মেজ ছেলেও। ইরানের রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এই আকস্মিক পতনে তেহরানের রাজপথে এখন শ্মশানের নীরবতা। যে সেনাবাহিনী দেশকে রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিত, তারা এখন নিজেরাই ছাইয়ে পরিণত হয়েছে।
এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতির পর ইরান এখন পাল্টা কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার অবস্থায় আছে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান আন্তর্জাতিক মহল। মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে ইরানের এই বিপর্যয় নতুন কোনো ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

