গণইস্তফার পর চরম প্রশাসনিক সংকট, উত্তর ২৪ পরগনার ২৫ পুরসভায় বসছে কড়া নজরদারি! – এবেলা

গণইস্তফার পর চরম প্রশাসনিক সংকট, উত্তর ২৪ পরগনার ২৫ পুরসভায় বসছে কড়া নজরদারি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার একের পর এক পুরসভায় কাউন্সিলরদের গণইস্তফায় তৈরি হয়েছে চরম প্রশাসনিক ডামাডোল। এই নজিরবিহীন সংকটজনক পরিস্থিতিতে নাগরিক পরিষেবা সচল রাখতে এবং উন্নয়নমূলক কাজ বজায় রাখতে এক বড় পদক্ষেপ নিল জেলা প্রশাসন। জেলার ২৫টি পুরসভার কাজকর্মের ওপর সরাসরি নজরদারির জন্য বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। জেলাশাসক শিল্পা গৌরিসারিয়া প্রতিটি পুরসভার জন্য একটি করে তিন সদস্যের বিশেষ মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন, যা অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।

কাউন্সিলরদের আকস্মিক পদত্যাগের ফলে পুরসভাগুলির স্বাভাবিক কার্যকলাপে স্থবিরতা আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। মূল মূলত রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের জেরেই এই গণইস্তফা বলে মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব যাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন নাগরিক পরিষেবা, স্বাস্থ্য ও সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর না পড়ে, সেই কারণেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই জরুরি হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।

তদারকিতে তিন সদস্যের কমিটি ও কাজের পরিধি

জেলা প্রশাসনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, গঠিত প্রতিটি কমিটিতে থাকছেন একজন জেলা-স্তরের আধিকারিক, সংশ্লিষ্ট পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার এবং ফিনান্স অফিসার। বনগাঁ, টাকি, বারাসাত থেকে শুরু করে ব্যারাকপুর— জেলার সমস্ত পুরসভাই এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় এসেছে। এই কমিটিগুলি নিয়মিতভাবে এলাকার কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ডেঙ্গুসহ ভেক্টরবাহিত রোগ প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা, বেআইনি নির্মাণ ও জমি দখল রোধ এবং রাজস্ব আদায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি খতিয়ে দেখবে। চলমান প্রকল্পগুলির প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে দ্রুত সমাধানের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে এই কমিটিকে। প্রয়োজনে স্থানীয় বিধায়কদের সাথে আলোচনা ও তাঁদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর পথও খোলা রাখা হয়েছে।

প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

ইতিমধ্যেই জেলার কাঁচড়াপাড়া, হালিশহর, ভাটপাড়া এবং গাড়ুলিয়া পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। বাকি পুরসভাগুলিতেও আগামীদিনে প্রশাসক বসবে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতিতে এই মনিটরিং কমিটি গঠনের ফলে পুর প্রশাসনের ওপর জেলাস্তরের তদারকি ও জবাবদিহি বহুগুণ বেড়ে যাবে। ফলে রাজনৈতিক শূন্যতার মাঝেও সরকারি প্রকল্পের কাজ থমকে যাবে না এবং নাগরিকরা দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা পাবেন। তবে দীর্ঘমেয়াদে নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া কেবল আমলাতান্ত্রিক নজরদারিতে পুরসভাগুলি কতটা মসৃণভাবে চলতে পারে, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *