গণনাকেন্দ্র যেন দুর্ভেদ্য দুর্গ, নিরাপত্তায় কলকাতার রাস্তায় নামছে বাড়তি ৩ হাজার পুলিশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে তিলোত্তমাকে। সোমবার সকাল থেকে কলকাতার ৮টি গণনাকেন্দ্রে শুরু হচ্ছে ভোট গণনা। গণনা চলাকালীন এবং ফলাফল পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরের রাস্তায় অতিরিক্ত ৩ হাজার পুলিশ কর্মী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে লালবাজার। এই বিশাল বাহিনীর নেতৃত্বে থাকছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও যুগ্ম পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার উচ্চপদস্থ কর্তারা।
গণনাকেন্দ্রের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ও নজরদারি
কলকাতার ৮টি প্রধান কেন্দ্র—নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম থেকে হেস্টিংস হাউস কিংবা সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস হাই স্কুল—প্রতিটি জায়গাতেই ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
- ভিতরের বলয়: স্ট্রংরুম ও গণনা হলের পাহারায় থাকছে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী।
- মধ্যবর্তী ও বাইরের বলয়: সশস্ত্র পুলিশ ও স্থানীয় থানার আধিকারিকরা নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাবেন।
- বফার জোন: গণনাকেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে কোনো রাজনৈতিক সমর্থক বা জমায়েতকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বিভিন্ন দলের সমর্থকদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখতে ব্যারিকেড ও পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
বিজয় মিছিল ও স্পর্শকাতর এলাকায় বিশেষ সতর্কতা
ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে লালবাজারের পক্ষ থেকে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফলাফল প্রকাশের পর বিজয় মিছিল বেরোলে প্রতিটি মিছিলের সঙ্গে পুলিশ বাহিনী থাকবে। মিছিলকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো হামলা বা পালটা হামলার ঘটনা না ঘটে, সেদিকে কড়া নজর রাখা হবে। এ ছাড়া শহরের যে সমস্ত এলাকা আগে থেকেই ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত, সেখানে ২০০ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী রুট মার্চ করবে। প্রয়োজনে ড্রোনের মাধ্যমেও আকাশপথে নজরদারি চালানোর প্রস্তুতি রেখেছে পুলিশ।
প্রশাসনের তৎপরতা
রবিবার খোদ পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা প্রতিটি গণনাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং লালবাজারে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক সারেন। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, গণনা শেষে শহরের আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে টহল দেবে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পেলেই দ্রুত পদক্ষেপ নিতে কুইক রেসপন্স টিমকে (QRT) সতর্ক রাখা হয়েছে। ওদিকে কোনো প্রকার প্ররোচনা বা অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
