প্রত্যাবর্তন না পরিবর্তন, পশ্চিমবঙ্গসহ পাঁচ রাজ্যের ভাগ্যনির্ধারণ আজ

বাংলার মসনদ কি আবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দখলেই থাকছে, নাকি দীর্ঘ দেড় দশক পর লালদিঘির পাড়ে ফিরবে পরিবর্তনের হাওয়া—সেই যক্ষ্মাপ্রশ্নের উত্তর মিলবে আজ। সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হচ্ছে ভোটগণনা। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, সবার নজর এখন আসাম, তামিলনাড়ু, কেরালা ও পুদুচেরির ফলাফলের দিকেও। তবে নজিরবিহীন নিরাপত্তা এবং সহিংসতাহীন নির্বাচনের পর বাংলার ফলাফল নিয়ে দেশজুড়ে চলছে টানটান উত্তেজনা।
জাদুর সংখ্যা ও সমীকরণের লড়াই
ফলতা কেন্দ্রে নির্বাচন বাতিল হওয়ায় ২৯৪ আসনের বদলে আজ গণনা হবে ২৯৩টি আসনে। ফলে সরকার গড়ার ম্যাজিক ফিগার ১৪৮ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১৪৭-এ। বুথফেরত সমীক্ষাগুলো গেরুয়া শিবিরের পাল্লা ভারী দেখলেও আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০২১ সালের অভিজ্ঞতার কথা। এবারের নির্বাচনে দক্ষিণবঙ্গের ‘ঘাসফুল দুর্গ’ এবং উত্তর ও পশ্চিমের ‘গেরুয়া গড়’ কার দখলে থাকে, তার ওপরই নির্ভর করছে নবান্নের ভবিষ্যৎ। বিশেষ নজর থাকবে ভবানীপুর কেন্দ্রের দিকে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন খোদ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
সহিংসতা বনাম শান্তির আবহ
নজিরবিহীনভাবে এবারের নির্বাচনে বড় কোনো প্রাণহানি বা অশান্তির খবর পাওয়া যায়নি, যা বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল। তবে ফল প্রকাশের পর নির্বাচনী পরবর্তী হিংসা নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। দুই শিবিরের নেতাদের আক্রমণাত্মক বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে শমীক ভট্টাচার্য বা কুণাল ঘোষরা শান্তির বার্তা দিলেও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি থামেনি। এদিকে কেরলে বাম সরকারের অস্তিত্ব রক্ষা এবং আসামে বিজেপির হ্যাটট্রিক হবে কি না, তা নিয়েও জাতীয় রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে। আজ দুপুরের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে ভারতের মানচিত্রে কার শক্তি বাড়ছে আর কার কমছে।
